ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে শুরু করবেন - এ টু জেড ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক আপনি কি ডিজিটাল মার্কেটিং কি, ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে কি বুঝায়, ডিজিটাল মার্কেটিং ফ্রিল্যান্সিং কোর্স কি, ফ্রিল্যান্সিং ডিজিটাল মার্কেটিং কি, ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব, ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব কি ইত্যাদি বিষয়ে জানতে আগ্রহী? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন।
ডিজিটাল-মার্কেটিং-কি
ডিজিটাল-মার্কেটিং-কি
পোস্ট সূচিপত্র:ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে শুরু করব? এ প্রশ্নটিই অনেকের মাথায় ঘুরপাক খায়। দেখুন, যুগ এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ এখন অনেক সচেতন এবং সময়, টাকা দুটোই সাশ্রয় করতে পছন্দ করে। তাই মানুষ চাকরি-বাকরি থেকে শুরু করে ব্যবসা, বাণিজ্য সবকিছুই প্রচার এবং প্রসার করতে আগ্রহী হয়ে থাকে। আর এর জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। এজন্য চলুন আমরা প্রথমেই জেনে নিই - ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে শুরু করবেন - এ টু জেড গাইডলাইন

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে শুরু করবেন

আজকে জানাবো, ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং আপনি একদম নতুন হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন - এ বিষয়ে এ টু জেড গাইডলাইন, পরামর্শ। বর্তমানে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির কারণে প্রত্যেককেই ডিজিটাল মার্কেটিং শিখা এবং জানা উচিত। আপনার যদি কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকে অথবা আপনি যদি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি হয়ে থাকেন তবে ডিজিটাল মার্কেটিং উভয়ের জন্যই অত্যন্ত জরুরী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং প্রচারণা অত্যন্ত জরুরী। আর কেউ যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর জ্ঞান ও দক্ষতা জেনে মার্কেটে তার সেবা বিক্রি করতে পারেন তাহলে উভয়ে লাভবান হবেন। যেমন ধরুন, আপনার যদি একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা থাকে তাহলে এখন মানুষ আর কাউকে জিজ্ঞেস না করে সরাসরি Google এ সার্চ দেয় "Best restaurant near me", তখন আপনার রেস্টুরেন্টের নামের ওয়েবসাইটটি সর্বপ্রথম দেখাবে এবং সেই কাস্টমার আপনার কাছেই যাবে। আবার কেউ যদি ক্লিনিং সার্ভিস সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তখন আশেপাশের মানুষ তার বাড়ি পুনঃনির্মাণ এবং পরিষ্কার করার জন্য Google এ সার্চ দেয় "Best cleaning service near me", সেখানেও ক্লিনিং সার্ভিস সেবা প্রতিষ্ঠানের নাম গুগলের প্রথমেই দেখা যাবে এবং তার কাছ থেকেই সেবা সার্ভিস গ্রহণ করবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন ডিজিটাল মার্কেটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন শুরু করা উচিত? তাই চলুন প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ডিজিটাল মার্কেটিং কি সে সম্পর্কে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? Digital Marketing

ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন পণ্য বা সেবার প্রচার ও প্রসার করাকেই ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing) বলে। ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন-কম্পিউটার, স্মার্ট মোবাইল ফোন, আইফোন ইত্যাদি ব্যবহার করে ইন্টারনেট সংযুক্ত রেখে এসইও (SEO), সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক (Facebook), ইন্সটাগ্রাম (Instagram), লিংকডিন, ইমেইল মার্কেটিং, ইউটিউব, হোয়াটসআ্যাপ ও মোবাইল অ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে কোন প্রোডাক্ট (জামা-কাপড়, জুতা, ঘড়ি, আসবাবপত্র ইত্যাদি) এর বিক্রি বাড়ানো বা সেবা, সার্ভিস (ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইনে কোচিং, অনলাইনে প্রাইভেট পড়ানো ইত্যাদি) এর প্রচার বাড়ানোই হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে সাশ্রয়ী খরচে এবং নির্দিষ্ট টার্গেটেড গ্রাহকদের কাছে সহজেই পণ্য পৌঁছানো এবং সেবা দেওয়া সম্ভব। ডিজিটাল মার্কেটিং মূলত অনলাইন ভিত্তিক মার্কেটিং।
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সফলতার মূল হল সময়ের সাথে ধৈর্য ধরা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। দেখুন, এক সময় মানুষ টেলিভিশন ও রেডিওতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুনতে বা এখনো শোনে। তার মাঝে মাঝে কিছু বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে দেখতে এবং রেডিওতে শুনতে পাওয়া যায়। এগুলো এক ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং। কিন্তু এগুলো কে কখন শুনবে তার কোন ঠিক নেই। পক্ষান্তরে, আজকাল আমাদের সবারই হাতে হাতে মোবাইল স্মার্টফোন দেখতে পাওয়া যায়। কোন প্রডাক্টের বা সেবার প্রচার যদি মোবাইল ফোনে ফেসবুক দেখতে থাকা অবস্থায় বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যায় তাহলে ব্যাপারটা আরো সহজ হয়ে যায়। এটা হল অনলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং অন্যদিকে, রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় দেখবেন কিছু বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ইত্যাদিতে প্রোডাক্টের (তেল, সাবান, ফার্নিচার ইত্যাদি) বা সার্ভিসের (ভাষা শেখানো হবে) বিজ্ঞাপন দেওয়া থাকে। আর এটা হল অফলাইন মার্কেটিং। আশা করি, ডিজিটাল মার্কেটিং কি - এ বিষয়ে একদম ক্লিয়ার হতে পেরেছেন।
ডিজিটাল-মার্কেটিং-কিভাবে-শুরু-করব
ডিজিটাল-মার্কেটিং-কিভাবে-শুরু-করব

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন?

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব - এই প্রশ্নটি কম-বেশি সবাই করে থাকেন। আসলে এর উত্তর রয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং কি এই প্রশ্নের মধ্যে। অর্থাৎ ডিজিটাল মার্কেটিং করতে যা যা কিছু লাগে সবকিছুই আপনাকে শিখতে হবে। তবে মনে রাখবেন সবগুলো শেখা একজন ব্যক্তির পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। এজন্য আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটা নির্দিষ্ট বিষয় আপনাকে বেছে নিতে হবে যা আপনি বাস্তব জীবনে পছন্দ করেন। অর্থাৎ ডিজিটাল মার্কেটিং এর মূল উপাদান/কৌশল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM), কন্টেন্ট রাইটিং, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি বিষয়ে ভালোভাবে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সুতরাং ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করতে হলে প্রথমেই নির্ভরযোগ্য কোনো আইটি প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট পড়ে বা ফ্রি ইউটিউব এর কোর্স গুলো ভালোভাবে দেখে আপনাকে দক্ষতা ও গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
তবে YouTube থেকে ফ্রি কোর্স শিখতে হলে আপনি ভালোভাবে হাতে-কলমে হয়তো সাপোর্ট পাবেন না। তাই ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে আপনি অনলাইনে বা অফলাইনে কোন নির্ভরযোগ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে উক্ত বিষয়গুলোতে ভালোভাবে জ্ঞান-দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, বর্তমানে অনলাইনে কোর্স শেখানোর কথা বলে অনেকেই প্রতারিত হয়ে থাকেন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন। তাই আপনি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে তারপরেই আপনি শিখতে পারবেন। আর এর জন্য আপনার থাকতে হবে ল্যাপটপ, কম্পিউটার অথবা স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং এর সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ অবশ্যই থাকতে হবে।
ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার আরেকটি ভালো উপায় হল ফেসবুক। আজকাল এমন কোন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী নেই যে তার একটি ফেসবুক একাউন্ট নেই। অর্থাৎ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী প্রত্যেকেরই আজকাল একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাই আপনি আপনার পণ্যের ছবি তুলে সেগুলো আপনার ফেসবুক একাউন্টে আপলোড করে তার গুনাগুন বর্ণনা করে মূল্য নির্ধারণ করে দিন। আপনার প্রোডাক্টটি যদি কারো পছন্দ হয়ে থাকে এবং তার রিজনেবল প্রাইসের মধ্যে পড়ে তাহলে অবশ্যই সে আপনাকে কেনার জন্য নক করবে। আর এভাবেই আপনি আপনার প্রোডাক্ট বিক্রির মাধ্যমে অনলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করতে পারবেন। তবে ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার জন্য এর উপাদান/কৌশল সমূহ সম্পর্কে আপনাকে একটা ভালো ধারণার থাকবে হবে। তাই চলুন ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার আগে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মূল উপাদান সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মূল উপাদান/শাখা/ধাপসমূহ

ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার জন্য আপনাকে প্রথমে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মূল উপাদান বা বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে আপনার একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। আর আজকে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ ৯টি কৌশল বা উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাহলে চলুন ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার কৌশল/উপাদান/ধাপসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
  • ১. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন - এসইও (SEO)
  • ২. সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM)
  • ৩. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM)
  • ৪. কন্টেন্ট মার্কেটিং
  • ৫. ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং
  • ৬. ইমেইল মার্কেটিং
  • ৭. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • ৮. মোবাইল মার্কেটিং
  • ৯. পিপিসি (Pay Per Click - PPC)
উপরে উল্লেখিত ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার ৯টি কৌশল বা মাধ্যম আপনার ব্যবসার ব্যাপক সফলতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট। এই বিষয়ে গুলো নিয়ে আমরা ধীরে ধীরে সহজভাবে আলোচনা করব যেন আপনাদের বুঝতে সহজ হয়। তাহলে চলুন ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার কৌশলগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন - এসইও (SEO)

গুগল (Google), Yahoo (ইয়াহু), মজিলা ফায়ারফক্স (Mozilla Firefox), বিং (Bing) ইত্যাদিকে বলা হয় সার্চ ইঞ্জিন। আমরা যখন কোন কিছু জানতে চাওয়ার জন্য গুগল এর মত সার্চ ইঞ্জিনে লিখে জানতে চাই তখন অনেকগুলো ওয়েবসাইট তথ্য নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। গুগলের প্রথম সারিতে ওয়েবসাইট আসার জন্য যে কাজটি করা হয় সেটিই হল এসইও (SEO)। অর্থাৎ এসইও (Search Engine Optimization - SEO) হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের উচ্চ র‍্যাঙ্কে নিয়ে আনতে পারবেন। এই অপ্টিমাইজেশন এর কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যা লিখে সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে তাকে কিওয়ার্ড বলে। মানুষ আজকাল যেকোনো প্রোডাক্ট কেনা বা জানার জন্য গুগলে সার্চ দিয়ে থাকেন। কাজেই আপনি যদি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সেল বৃদ্ধি করার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়েবসাইটের এসইও কাজটি ভালোভাবে করতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নামের ওয়েবসাইটটি গুগলের প্রথম পাতায় দেখা যাবে এবং গ্রাহকরা তাতে বেশি সার্চ দিয়ে খোঁজ করবে এবং বিক্রয় বেড়ে যাবে। তাছাড়া কেউ কেউ ব্লগ বানিয়ে তাতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) করে ভিউ বাড়িয়ে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করে থাকেন। অর্থাৎ ব্যবসা বৃদ্ধি ও অনলাইন ইনকাম বাড়ানোর জন্য এসইও এর গুরুত্ব বলে বুঝানো যাবে না। এসইও সাধারণত ৪ (চার) ধরনের হয়ে থাকে। নিচে ৪ ধরনের এসইও (Search Engine Optimization - SEO) উল্লেখ করা হলো।
অন পেজ এসইও (On-page SEO): নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ওয়েবসাইটের ভেতরের কনটেন্ট, টাইটেল, মেটা ডেসক্রিপশন, ইমেজ অল্টার ট্যাগ, হেডিং (H1, H2, H3), ইন্টার্নাল ও এক্সটার্নাল লিংক ইউআরএল সেটাপ ইত্যাদি অন পেজ এসইও এর মধ্যে পড়ে, যা সার্চ ইঞ্জিন গুগল এ উচ্চ Rank করে এবং অর্গানিক ট্রাফিক (গ্রাহক) বৃদ্ধি করে।।
অফ পেজ এসইও (Off-page SEO): নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ওয়েবসাইটের বাইরে গৃহীত কিছু কৌশল যা ওয়েবসাইটকে গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে Ranking বাড়াতে, জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এটি মূলত ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং পাওয়ারফুল ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম গুলোর সাথে সংযুক্ত করে নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করা। এটি মূলত ওয়েবসাইটের লিংক ও আর্টিকেলের লিংকগুলো ব্যাকলিংক, গেস্ট পোস্টিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এবং লোকাল এসইও এর সাথে সংযুক্ত করানো।
টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO): এটি মূলত নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ওয়েবসাইটের ভেতরের অংশে অপটিমাইজেশন করা যেমন Google এর রোবট ঠিকমতো ওয়েবসাইটটি রল করতে পারছে কিনা, ব্রোকেন লিংক আছে কিনা, ইনডেক্স সমস্যা হয় কিনা এবং সাইটের গতি, মোবাইল ফ্রেন্ডলি ইত্যাদি নিরাপত্তার জন্য।
লোকাল এসইও (Local SEO): একটি নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ওয়েবসাইটকে গুগল ম্যাপের সাথে সংযুক্ত করে স্থানীয় গ্রাহকদের কাছে পণ্য বা সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি কৌশল। কেননা অনেক গ্রাহক তার প্রয়োজন অনুযায়ী "... near me" কথাটি লিখে সার্চ করেন তখন কাছাকাছি সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান থাকলে সেটি সবার প্রথমে গুগল সার্চ পেজে ভেসে ওঠে।
ডিজিটাল-মার্কেটিং-এ-টু-জেড
ডিজিটাল-মার্কেটিং-এ-টু-জেড
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন - এসইও (SEO) একটি বড় অধ্যায় এবং এর ব্যাপকতা অনেক বেশি। অনেকেই এসইও এর ওপর দক্ষতা অর্জন করে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে বিদেশি বায়ারদের কাজ করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করে থাকেন। আপনি যদি (Search Engine Optimization - SEO) এসইও সম্পর্কে ভালো জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে আপনি তাদের মতো অনেক টাকা অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন। তাহলে বন্ধুরা আশা করি, আপনারা ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে শুরু করবেন তার এ টু জেড গাইডলাইন ভালোভাবে বুঝতে এবং জানতে পেরেছেন। অবশ্য আমি নিজেই (Search Engine Optimization - SEO) এই বিষয়টির উপরে ভালোভাবে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছি। আপনি যদি এসইও (SEO) সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ও বুঝতে চান তাহলে আমাদেরকে কমেন্টের মধ্যে জানালে পরবর্তীতে "সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও - SEO)" সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ আর্টিকেল এই ওয়েবসাইটে পাবলিশ করব।

২. সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM)

গুগল (Google), Yahoo (ইয়াহু), মজিলা ফায়ারফক্স (Mozilla Firefox), বিং (Bing) ইত্যাদি সার্চ ইঞ্জিনে টাকার বিনিময়ে ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন দেখানোর কৌশল বা পদ্ধতিকেই সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বলে বা সংক্ষেপে (SEM) বলে। সাধারণত বড় বড় কোম্পানিগুলো যেমন অ্যামাজন, দারাজ তাদের পণ্য বা সেবা বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে ওই সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এতে করে ওয়েবসাইট গুলোতে ভিজিটর বাড়ে এবং তার সাথে সাথে সেলসও বাড়ে। । এতে করে ওয়েবসাইটের মালিকগণ লাভবান হয়ে থাকেন। এমনকি বর্তমানে তারা বিশ্বের ধনী লোকগুলোর মধ্যে পড়েন। অনেকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও - SEO) এবং সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (এসইএম - SEM) দুটোকেই একসাথে গুলিয়ে ফেলেন। দুটো পদ্ধতির কার্যক্রম একই হলেও এসইএম (SEM) টাকার বিনিময়ে গুগলের প্রথম পৃষ্ঠায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত Rank করে পক্ষান্তরে, এসইও (SEO) অর্গানিক পদ্ধতিতে Google এর প্রথম পৃষ্ঠায় Rank করে যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকে। আশা করি, 'ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব' লেখাটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন।

৩. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM)

সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম যা সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচলিত বিশ্বের প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে এবং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। আর সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অতি দ্রুত গিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য খুবই সহযোগী দেখা গেছে বেশিরভাগ মানুষ ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, লিংকটিন ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে এবং যে কোন কিছু আপলোড করলে তা মুহূর্তেই মানুষের মাঝে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এসব সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন খুব অল্প টাকায় মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। তাছাড়া এর মাধ্যমে অনেক সুবিধা পাওয়া যায় যা নিচে উল্লেখ করা হলো -
  • সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছোট-বড় যেকোনো ধরনের প্রোডাক্ট খুব সহজেই প্রচার করা যায়।।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারা ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যে সুখ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
  • এই প্লাটফর্ম গুলোতে খুব কম খরচে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়।
  • টার্গেটেড ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় যেটা সরাসরি ফিজিক্যাল মার্কেটিং এর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনা।
  • সহজেই যেকোনো ধরনের প্রোডাক্ট এবং ক্রেতা পাওয়া যায়।
  • দেশে এবং বিদেশে খুব সহজেই বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় যা সাধারণত খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
সোশ্যাল মিডিয়ার উপরোক্ত সুবিধা গুলো খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম যদিও এর ব্যাপকতা বিশাল। তবে একটা জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেমন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডিন, ইউটিউব ইত্যাদি এর এলগরিদম গুলো কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া। যেমন নিয়মিত পোস্ট করা, শেয়ার করা, কমেন্টের উত্তর দেওয়া এবং ইনস্ট্যান্ট মেসেঞ্জার চেক করে তার উত্তর দেওয়া। ক্রেতার চাহিদা মত অর্ডার থাকলে সেগুলো অতি দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।

৪. কন্টেন্ট মার্কেটিং

সাধারণত কোন বিষয়ে বিস্তারিত লেখা ভিডিও তৈরি করা বা শট ভিডিও তৈরি করা যেটা মানসম্মত এবং দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পায় সেগুলোকে সেগুলোকে মূলত কনটেন্ট বলা হয় একটা ভালো কনটেন্ট লাখকোটি পাঠকের/দর্শকের মন জয় করতে পারে। সেটা হয়তো ভাইরাল হয়ে অথবা শেয়ারের মাধ্যমে। সেখানে যদি আপনার কনটেন্ট সম্পর্কিত কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস হয়ে থাকে এবং ভিজিটর যদি তার প্রয়োজন মনে করে থাকে তাহলে সেটি ব্যাপক হারে সেল হবে। আপনি ব্যবসায়ী ভাবে লাভবান হবেন এটিকেই মূলত কনটেন্ট মার্কেটিং বলা যেতে পারে। অনলাইনে আপনার অডিয়েন্সকে একটি লাভজন ক কাস্টমারের পরিণত করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে কন্টেন্ট মার্কেটিং। আমরা অনেকেই মনে করে থাকি এটি হয়তো ইদানিং শুরু হয়েছে কিন্তু আসলে তা নয়। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন নামে একজন মার্কিন ১৭৩২ সালে এই কনটেন্ট মার্কেটিং শুরু করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন যেটিরর বর্তমানেও দিন দিন জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। সুতরাং ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করতে হলে আপনি কন্টেন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে শুরু করতে পারেন যেটি খুবই কার্যকরী একটি পন্থা।

৫. ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং

আমরা সাধারণত শহর বাজারে ডানে-বামে দেখলে হঠাৎই আমাদের চোখের সামনে কিছু ডিজিটাল বিলবোর্ড চোখে পড়ে যেগুলো সাধারণত ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং। অনেকে এটাকে ডিসপ্লে বিজ্ঞাপনও বলে থাকেন। ডিজিটাল ডিসপ্লে সাধারণত বড় বিল্ডিং এর গায়ে পণ্য বা পরিষেবার প্রচারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিডিও, অডিও,, ব্যানার, টেক্সট ইত্যাদি ক্লিপ করে ব্যবহার করেশ এটি মূলত ডিজিটাল ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং অনেকটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মত ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এগুলো কিছুটা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হলেও মানুষকে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করতে পারে। এর ফলে কোম্পানির সেল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারে। এটিও ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার একটি পন্থা বলে মনে করতে পারেন। আশা করি, 'ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব' লেখাটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন।

৬. ইমেইল মার্কেটিং

ইমেইল মার্কেটিং হল ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অত্যন্ত সহজলভ্য এবং জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। এটি একটি শক্তিশালী মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে ইমেল পাঠিয়ে টার্গেটেড অডিয়েন্স কে সহজেই পণ্য বা সেবার তথ্য জানিয়ে যোগাযোগ করা যায়। উন্নত বিশ্বে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে ইমেল যোগাযোগ অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা অনেকেই ইমেইল আসলে খেয়াল করি না কিন্তু তারা ইমেইলকে খুবই প্রাধান্য দেয়। তাই যেকোনো ইমেইল গেলে তারা অবশ্যই সেটি চেক করে দেখে। সেটি যদি তার প্রয়োজন মনে করে তাহলে অবশ্যই সেই পণ্যটি বা পরিষেবাটি অর্ডার করবেন। এতে করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। খুবই কম সময়ের মধ্যে এবং অতি স্বল্প মূল্যে ইমেইল এর মাধ্যমে যোগাযোগ করা সহজ হয়। তাই এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সুতরাং ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করতে চাইলে ইমেইল মার্কেটিং দিয়েই আপনি শুরু করতে পারেন।

৭. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অন্যরকম মার্কেটিং হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যেখানে আপনি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বা নিজ ওয়েবসাইটে আ্যামাজন, দারাজ এর মতো বড় বড় কোম্পানি গুলোর প্রোডাক্ট প্রচার এবং এর গুনাগুন, সুবিধা-অসুবিধা বর্ণনা করে খুব সহজেই কাস্টমারদের আকৃষ্ট করতে পারেন, কাস্টমার যদি আপনার প্রচারে আকৃষ্ট হয় এবং আপনার রেফারেন্সে ওই প্রোডাক্ট সেই কোম্পানি থেকে ক্রয় করে সেখান থেকে আপনি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে কমিশন পাবেন। আর সেটি হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যা দীর্ঘদিন ধরে আপনার অনলাইন ইনকাম হতে পারে। এটিকে অনেকে প্যাসিভ ইনকামও বলে থাকেন। এতে তেমন কোনো খরচ নেই। আপনি শুধু রেগুলার সেই পণ্যগুলো আপনার ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, সোশ্যাল মিডিয়া ও আপনার ওয়েবসাইটে প্রচার করবেন এবং সেখান থেকে আপনি একটা কমিশন পাবেন। তাহলে আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করতে চান তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দিয়েই শুরু করতে পারেন।

৮. মোবাইল মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং এর আরো একটি উল্লেখযোগ্য মার্কেটিং কৌশল হল মোবাইল মার্কেটিং। দেখা গেছে, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৫. ১১ বিলিয়ন মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এর সংখ্যা দিন দিন দ্রুত গতিতে বেড়ে চলছে। তাছাড়া অনেক মানুষ নিজের যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য একাধিক ফোন ব্যবহার করে থাকেন। অনেক বড় বড় কোম্পানি মোবাইল ফোনের এসএমএস, এমএমএস ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের পণ্য এবং পরিষেবার প্রচারণা করে থাকেন। সুতরাং আপনি যদি আপনার পণ্যের বা পরিষেবার প্রচার/মার্কেটিং শুরু করতে চান তাহলে মোবাইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে করতে পারেন।

৯. পিপিসি (Pay Per Click - PPC)

ডিজিটাল মার্কেটিং এর আরো একটি উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপন কৌশল হল পিপিসি (PPC), যেখানে বিজ্ঞাপনদাতা বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অর্থ প্রদান করে থাকে। আর গুগল এডস এবং ফেসবুক এডস হলো জনপ্রিয় পিপিসি প্ল্যাটফর্ম। এগুলোতে প্রত্যেকটি ক্লিকে রেভিনিউ দেওয়া হয়। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করতে চান এবং অনলাইন ইনকাম করতে চান তাহলে পিপিসি দিয়ে শুরু করতে পারেন।
প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার ৯টি কৌশল বা ধাপ আপনাদের সামনে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি এই ৯টি কৌশল ভালো হবে জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। আসলে শুধু ৯টি কৌশল নয় আরো অনেক মার্কেটিং কৌশল রয়েছে যেখানে আমাদের দেশের মতো দেশে জনপ্রিয় ৯টি মার্কেটিং কৌশল আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এই মার্কেটিং কৌশল গুলো আপনাকে ভালোভাবে শিখতে হবে এবং এ বিষয়ে গভীর জ্ঞান-দক্ষতা অর্জন হবে। এজন্য আপনাকে নির্ভরযোগ্য কোনো আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে এবং ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এ সফলতা অর্জন করতে পারবেন। বর্তমানে অনলাইনে প্রতারণার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে যা খুবই চিন্তার বিষয়। তাই আপনাকে অনেক ভেবেচিন্তে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি, 'ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব' লেখাটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন।
চলুন বন্ধুরা এখন আমরা "ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ কি" এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব এ বিষয়ে আমরা আগেই জেনেছি। কিন্তু "ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ কি?" এই প্রশ্ন অনেকে করে থাকেন। তাদের কথা বিবেচনা করে আমরা এখন 'ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ কি?' এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ হল একজন ব্যবসায়ীর পণ্য বিক্রি করে লাভবান হয়ে সফলতা অর্জন করা কিম্বা তার সার্ভিস দিয়ে অনলাইনে ইনকাম করা। আর এজন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মানুষ এখন অনলাইনে কেনাকাটা, কোচিং, হোম সার্ভিস ডেলিভারি ইত্যাদিতে দিন দিন অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। অনেকেই সময় এবং টাকা বাঁচানোর জন্য শর্টকাট পদ্ধতি হিসেবে ডিজিটাল সেবা পছন্দ করে থাকেন। নিচে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজগুলো উল্লেখ করা হলো।
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও - SEO) করা।
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM) করা।
  • ইমেইল মার্কেটিং করা।
  • মোবাইল মার্কেটিং করা।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা।
  • ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং করা ইত্যাদি।
প্রিয় পাঠক আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ কি এ বিষয়ে উপরে উল্লেখিত ৯টি বিশেষ কৌশল বা ধাপ বর্ণনা করা হয়েছে সেখান থেকে আপনি অনুগ্রহ করে বিস্তারিত জেনে নিবেন।

FAQ (প্রশ্নোত্তর) - ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে শুরু করবেন - এ টু জেড ২০২৬

Q1. ডিজিটাল মার্কেটিং এ কি কি কাজ করা হয়?
উত্তর: ডিজিটাল মার্কেটিং এ মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করে ইন্টারনেটের সাহায্যে ফেসবুক, ইউটিউবের মাধ্যমে তথ্য কোন পণ্য বা পরিষেবার মার্কেটিং করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর এর জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও - SEO) করা, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM) করা, ইমেইল মার্কেটিং করা, মোবাইল মার্কেটিং করা, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা, ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং করা ইত্যাদি কাজ করা হয়।
Q2. ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য কি কি শিখতে হবে?
উত্তর: ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য শিখতে হবে -
১. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন - এসইও (SEO)
২. সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM)
৩. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM)
৪. কন্টেন্ট মার্কেটিং
৫. ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং
৬. ইমেইল মার্কেটিং
৭. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
৮. মোবাইল মার্কেটিং
৯. পিপিসি (Pay Per Click - PPC)
উপরে উল্লেখিত ডিজিটাল মার্কেটিং এর ৯টি বিশেষ কৌশল বা ধাপ বর্ণনা করা হয়েছে সেখান থেকে আপনি অনুগ্রহ করে বিস্তারিত জেনে নিবেন।
Q3. ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা কি কঠিন?
উত্তর: আপনার স্মার্ট মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং শেখার অদম্য ইচ্ছা থাকলে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা খুব কঠিন নয়। আপনার পছন্দ অনুযায়ী স্কিল শেখা উচিত।
Q4. ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব?
উত্তর: ডিজিটাল মার্কেটিং এর মূল উপাদান/কৌশল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM), কন্টেন্ট রাইটিং, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি বিষয়ে ভালোভাবে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সুতরাং ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করতে হলে প্রথমেই নির্ভরযোগ্য কোনো আইটি প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট পড়ে বা ফ্রি ইউটিউব এর কোর্স গুলো ভালোভাবে দেখে আপনাকে দক্ষতা ও গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তবে YouTube থেকে ফ্রি কোর্স শিখতে হলে আপনি ভালোভাবে হাতে-কলমে হয়তো সাপোর্ট পাবেন না। তাই ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে অনলাইনে বা অফলাইনে কোন নির্ভরযোগ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে উক্ত বিষয়গুলোতে ভালোভাবে জ্ঞান-দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
Q5. মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যাবে।

সর্বশেষ কথা - ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে শুরু করবেন - এ টু জেড ২০২৬

প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ আমরা নতুনদের জন্য 'ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে শুরু করবেন - এ টু জেড ২০২৬' সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ডিজিটাল মার্কেটিং করতে যা যা কিছু লাগে সবকিছুই আপনাকে শিখতে হবে। তবে মনে রাখবেন সবগুলো শেখা একজন ব্যক্তির পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। এজন্য আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটা নির্দিষ্ট বিষয় আপনাকে বেছে নিতে হবে যা আপনি বাস্তব জীবনে পছন্দ করেন। অর্থাৎ ডিজিটাল মার্কেটিং এর মূল উপাদান/কৌশল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM), কন্টেন্ট রাইটিং, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি বিষয়ে ভালোভাবে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সুতরাং ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করতে হলে প্রথমেই নির্ভরযোগ্য কোনো আইটি প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট পড়ে বা ফ্রি ইউটিউব এর কোর্স গুলো ভালোভাবে দেখে আপনাকে দক্ষতা ও গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তবে YouTube থেকে ফ্রি কোর্স শিখতে হলে আপনি ভালোভাবে হাতে-কলমে হয়তো সাপোর্ট পাবেন না। 

তাই ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে আপনি অনলাইনে বা অফলাইনে কোন নির্ভরযোগ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে উক্ত বিষয়গুলোতে ভালোভাবে জ্ঞান-দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, বর্তমানে অনলাইনে কোর্স শেখানোর কথা বলে অনেকেই প্রতারিত হয়ে থাকেন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন। তাই আপনি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে তারপরেই আপনি শিখতে পারবেন। আর এর জন্য আপনার থাকতে হবে ল্যাপটপ, কম্পিউটার অথবা স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং এর সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ অবশ্যই থাকতে হবে। আশা করি, 'ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব' লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। আপনি যদি এ বিষয়ে সত্যি সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে আপনার জন্য রইল শুভকামনা। এরকম আরো ভালো ভালো লেখা পেতে হলে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন এবং লাইক কমেন্ট করুন। কোন বিষয়ে আপনার প্রশ্ন থাকলে আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url