অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস জেনে রাখুন
অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস জেনে রাখুন। আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক, আপনি কি স্মার্ট অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সকল গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী? আপনার উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় আছেন। তাহলে আজকের লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ রইল।
![]() |
| অ্যান্ড্রয়েড-মোবাইল-ফোনের-১০ট-গুরুত্বপূর্ণ-সেটিংস |
অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস
আপনার হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের সিক্রেট গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস সম্পর্কে জানতে হলে আজকের লেখাটি আপনাকে অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। কেননা এখানে আপনার হাতে থাকা স্মার্ট মোবাইল ফোনের সকল গোপন কোড সমূহ ও দশটি ইম্পরট্যান্ট সেটিংস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহার সঠিকভাবে করতে হলে এ সকল সিক্রেট কোড সমূহ এবং গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস সম্পর্কে সকলেরই ই জানা উচিত।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস সমূহ
সেদিন এক যুবকের হাতে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন দেখে একজন প্রবীণ ব্যক্তি বলে উঠলেন, 'কোন যুগ এলো রে বাবা, সবার হাতে দেখি মোবাইল ফোন'! হ্যাঁ মোবাইল অ্যান্ড্রয়েড ফোন এখন শুধু বিলাসিতা নয়, মানুষের জীবনের দৈনন্দিন জীবনের জন্য একটি অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছে। একটি স্মার্ট অ্যান্ড্রয়েড ফোন মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ, বিনোদন, পড়াশোনা, লেনদেন, এমনকি অনলাইন ইনকামের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই অ্যান্ড্রয়েড ফোনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস এবং গোপন/সিক্রেট কোড রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে আমরা ফোন ব্যবহারকারীরা অনেকেই জানিনা। তাই আপনি যদি আপনার জীবনের অপরিহার্য অংশ অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী সচল রাখতে চান তাহলে আপনাকে এর গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস এবং গোপন কোড সমূহ অবশ্যই জেনে রাখতে হবে।
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট মোবাইল ফোন কেনার পর সর্বপ্রথম তার গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস করে নেওয়াই উত্তম। কেননা এসব সেটিংস না করলে আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় স্মার্টফোনটি নষ্ট কিংবা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই সচেতন ব্যক্তি হিসেবে আপনার ফোনটি নিরাপদ এবং কার্যকর রাখতে অবশ্যই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস জেনে নিন।
১। সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি সেটিংস - Security and Privacy Settings
সবার আগে নিরাপত্তা দরকার। তাই আপনার হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড ফোনটির নিরাপত্তা রক্ষা করা আপনার একটি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাছাড়া এর প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা রক্ষা করাও উচিত। তাই আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সিকিউরিটি এবং প্রাইভেসি সেট করতে আপনি প্রথমে স্ক্রিন লক, পিন কোড, পাসওয়ার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক বা ফেইস লক ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে আপনার Android Mobile ফোনটি যদি আপনার কাছ থেকে পরিচিত/অপরিচিত কারো কাছে থাকে তাহলে আপনার ফোনের গোপন তথ্য জানতে পারবেনা। কেননা স্ক্রিন লক, পাসওয়ার্ড, গোপন পিন ইত্যাদি আপনার কাছে গোপন থাকে। এর ফলে আপনার ডিভাইসটি যেমন সেভ থাকবে, তেমনি আপনার তথ্যসমূহও গোপন থাকবে। তাই সিকিউরিটি ও প্রাইভেট সেটিংস চালু করে রাখুন।
২। ব্যাটারি ও পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট - Battery and Power Management
অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার করতে চাইলে তার ব্যাটারি ও পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। তাই ফোনের ব্যাটারি চার্জ কমে গেলে ব্যাটারি সেভার মুড (Battery Saver Mode) চালু রাখুন। এটি অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা বিভিন্ন কার্যক্রমকে সীমিত রাখবে এবং আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটির ব্যাটারিকে দীর্ঘ সময় ধরে সচল রাখবে।
![]() |
| এন্ড্রয়েড-ফোনের-গুরুত্বপূর্ণ-সেটিং |
তাছাড়া সর্বশেষ এন্ড্রয়েড ভার্সনে থাকা অ্যাডাপটিভ ব্যাটারি (Adaptive Battery) ফিচারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই (AI) ব্যবহার করে আপনার ফোনের কোন অ্যাপটি বেশি ব্যাটারি পাওয়ার খরচ করে তা জানিয়ে দেয় এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যাটারি পাওয়ার খরচ কমিয়ে দেয়। সুতরাং আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট মোবাইল ফোনটির দীর্ঘস্থায়ী সচল রাখতে ব্যাটারি ও পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত সেটিংসগুলো করে রাখুন।
৩। ডিসপ্লে সেটিংস - Display Settings
আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটির অটো ব্রাইটনেস (Auto Brightness) ফিচারটি চালু রাখুন। এতে করে আপনার মোবাইলের স্ক্রিনকে আশেপাশের আলো অনুযায়ী অটোমেটিক উজ্জ্বল বা ম্লান করে তোলে। এর ফলে মোবাইলের স্ক্রিনের অতিরিক্ত আলো চোখে পড়তে দেয় না এবং চোখকে সুরক্ষিত রাখে। তাছাড়া অনুজ্জ্বল আলো ব্যাটারির অতিরিক্ত চার্জ নষ্ট হতে দেয় না, তাই ব্যাটারি দীর্ঘদিন সার্ভিস দিতে পারে। এছাড়াও অনেকক্ষণ মোবাইল ফোনে ডার্ক মোড (Dark Mode) চালু রেখে ব্যবহার চোখ আরাম অনুভব করে এবং ওলিড (OLED) স্ক্রিনে ব্যাটারি খরচ একেবারেই কমে যায়। এর সাথে স্ক্রিন টাইম (Screen Timeout) আউট চালু রাখুন। এতে করে নির্দিষ্ট সময় পর ফোনের স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাবে এবং অপ্রয়োজনীয় চার্জ অপচয় হতে দেবে না। তাহলে ডিসপ্লে সেটিংস এ নিচের তথ্যগুলো খেয়াল রাখুন-
- Auto Brightness (অটো ব্রাইটনেস) চালু রাখুন।
- Dark Mode (ডার্ক মোড) সচল রাখুন।
- Screen Timeout (স্ক্রিন টাইম আউট) চালু রাখুন।
এভাবে আপনি যদি আপনার ফোনে ডিসপ্লে সেটিংস করতে পারেন তাহলে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি যেমন নিরাপদ থাকবে তেমন নিশ্চিন্তে দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারবেন।
৪। গুগল একাউন্ট ও ক্লাউড ব্যাকআপ - Google Account & Cloud Backup
গুগল একাউন্টকে একটি অ্যান্ড্রয়েড (Android) ফোনের প্রাণকেন্দ্র বলা চলে। আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে ব্যাকআপ ও রিস্টোর চালু রাখলে গুগল ড্রাইভ থেকে সহজেই ডাটা ফেরত পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও সিঙ্ক সেটিংস এর মাধ্যমে আপনি আপনার ফোনের কন্টাক্ট নাম্বার, ক্যালেন্ডার ও ছবি ইত্যাদি অটোমেটিক ভাবে সিঙ্কোনাইজেশন হয়। সুতরাং আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নিচের সেটিংগুলো চালু রাখুন-
- Backup & Restore চালু রাখুন।
- Sync Settings ওপেন রাখুন।
৫। ওয়াইফাই ও মোবাইল ডাটা সেটিংস - WiFi & Mobile Data Settings
একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন যখন ব্যবহার করবেন তখন আপনাকে ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করতেই হবে। এজন্য আমরা অনেকেই খোলা বা পাবলিক রাউটার এর মাধ্যমে ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এ সময় আপনাকে খুবই সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে। কেননা আননোন/অচেনা নেটওয়ার্কের থাকলে হ্যাকাররা খুব সহজেই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে আপনার ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই সব সময় নিরাপদ রাউটার/ওয়াইফাই ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
তাছাড়া অনেক সময় মোবাইলের অ্যাপ গুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে মোবাইল ডাটা ব্যবহার করতে থাকে। এজন্য আপনাকে ডাটা সার্ভার অপশন চালু রাখতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ রাখতে হবে। এতে আপনার ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা সাবস্ক্রাই হবে এবং ব্যাটারি ও বেশি সময় সচল থাকবে। সুতরাং আপনি আপনার ওয়াইফাই এবং মোবাইল ডাটা সেটিংসের জন্য নিচের অপশন গুলো খেয়াল রাখুন -
- নিরাপদ ওয়াইফাই/রাউটার ব্যবহার করুন।
- নিজস্ব মোবাইল ডাটা ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।
৬। মোবাইল স্টোরেজ ও মেমোরি ম্যানেজমেন্ট - Mobile Storage & Memory Management
আমরা অনেক সময় মোবাইলে ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টারি বা প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় নানা কিছু এন্ড্রয়েড মোবাইলের ইন্টারনাল মেমোরিতে সেভ রাখি। এতে করে মোবাইল অনেক সময় স্লো হয়ে যায় এবং মোবাইলে মাঝেমধ্যে ফাংশনাল ডিস্টার্ব দেখা যায়। এ সমস্যা রাতে আপনি আপনার ডকুমেন্টারি গুলো ইন্টারনাল মেমোরিতে না রেখে এসডি কার্ড (SD Card) ম্যানেজমেন্টে রাখতে পারেন। এতে করে আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের স্টোরেজ ফাঁকা থাকবে এবং আপনার ডিভাইসটি বেশ স্পিডি হবে। তাছাড়া আপনি আপনার মোবাইল ফোনটিতে স্টোরেজ এলার্টস চালু রাখলে যখনই আপনার ফোনের স্টোরেজ পূর্ণ হতে শুরু করবে ঠিক তখনই সতর্কবার্তা আপনাকে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলার জন্য সতর্ক সংকেত দিতে থাকবে। এতে করে আপনি খুব সহজেই আপনি আপনার মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ এবং ডকুমেন্ট ডিলিট করতে পারবেন। তাছাড়া বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফাইলস বাই গুগল (Files by Google) নামের একটি বিল্ট-ইন অ্যাপ থাকে। আপনার স্মার্টফোনের স্টোরেজ ফাঁকা করতে এটি খুবই কার্যকরী। একটি খুলে প্রথমে উপরের বামদিকের থ্রি ডাঁটে ক্লিক করুন। তারপর ক্লিন ট্যাবে ট্যাব করুন। সেখান থেকে আপনার অপ্রয়োজনীয় ফাইল, ছবি, স্ক্রিনশট এবং সবচেয়ে বড় সাইজের ফাইল গুলো ডিলিট বাটনে চাপ দিয়ে মুছে ফেলুন। আপনার স্মার্টফোনে যত বেশি জায়গা ফাঁকা থাকবে, আপনার স্মার্টফোনটি তত বেশি দ্রুতগতি সম্পন্ন হবে। সুতরাং মোবাইল স্টোরেজ ও ম্যানেজমেন্টের জন্য নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখুন -
- SD Card ব্যবহার করুন।
- Storage Alerts (স্টোরেজ এলার্টস) চালু রাখুন।
আপনি যদি স্যামসাং গ্যালাক্সি স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন তবে আপনার জন্য আরও একটি বিশেষ সুযোগ রয়েছে। আপনি আপনার ডিভাইসটির সেটিংস অপশনে গিয়ে ডিভাইস কেয়ার, তারপর মেমোরি, তারপর র্যাম প্লাসে যাবেন। এই ফিচারটি মূলত আপনার ফোনের কিছুটা স্টোরেজকে অস্থায়ী মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। আপনি যদি এই অপশনটি বন্ধ করে দেন তবে সেই স্টোরেজ টুকু আবার ফাঁকা হিসেবেই আপনি পাবেন অর্থাৎ Settings>Device Care>Memory>RAM Plus.
৭। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ফুল ফ্যাক্টরি রিসেট
আপনি যদি আপনার মোবাইল ফোনের সকল ছবি, ভিডিও বা ডকুমেন্ট মুছে ফেলতে চান অর্থাৎ একেবারে নতুন ফোনের মত ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনাকে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিতে ফুল ফ্যাক্টরি রিসেট দিতে হবে। তবে মনে রাখবেন রিসেট দিলে আপনার ফোনের সবকিছুই ডিলিট বা মুছে যাবে। মোবাইল ফোনে রিসেট দিতে খুব একটা বেশি সময় লাগে না এবং খুব সহজেই বর্তমানে এ প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করা যায়। তবে আপনি যদি আপনার প্রয়োজনীয় ছবি বা ডকুমেন্ট সেভ বা নিরাপদ রাখতে চান তবে সেগুলো আপনাকে ব্যাকআপ বা নির্দিষ্ট জায়গায় সরিয়ে নিতে হবে। এর ফলে আপনার ফোনের সবকিছুই ডিলিট হয়ে যাবে এবং আপনার ফোনটি খুব দ্রুত গতি সম্পন্ন হয়ে স্পিডি হবে। এজন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনে রিসেটের ক্ষেত্রে নিচের পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন:
Settings>System>Reset Option>Erase all data (Factory Reset) এ যান। তারপর "Erase all data" এতে ক্লিক করুন। ব্যাস; আপনার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
আর আইফোন (iPhone) রিসেটের ক্ষেত্রে নিচের পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন:
Settings>General>Transfer or Reset iPhone >Erase All Content and Settings এ গিয়ে "Continue" এ ক্লিক করুন। আপনার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। (সূত্র: পপুলার সায়েন্স)
৮। নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখুন
আপনার অতি প্রয়োজনীয় অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি দ্রুত গতি সম্পন্ন এবং নিরাপদ রাখতে জরুরিভাবে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখুন। কেননা Android ফোনের সর্বশেষ আপডেট আপনার ফোনে নতুন ফিচার যোগ করতে এবং নিরাপত্তা দিতে বিশেষভাবে কার্যকরী। তাছাড়া সিকিউরিটি প্যাচ (Security Patch) এই নিরাপত্তা দুর্বলতা দূর করতে আপডেট রাখা জরুরী। তাছাড়া আপনার স্মার্টফোনে থাকা সকল প্রয়োজনীয় অ্যাপ গুলো প্লে স্টোর থেকে আপডেট এখন। এতে করে আপনার ফোনের বাগগুলো অটোমেটিক ফিক্স হয়ে যাবে এবং ফোনের নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। সুতরাং আপনার ফোনের সিস্টেমগুলো আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরী।
৯। অ্যাক্সেসিবিলিটি সেটিংস - Accessibility Settings
আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটিতে অ্যাক্সেসিবিলিটি ফিচারগুলো বিশেষভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে করে সবাই সমানভাবে ডিভাইস গুলো ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া যদি কেউ চোখের সমস্যা নিয়ে স্ক্রিন জুম করে লেখাগুলো পড়তে পারেন সেজন্য ম্যাগনিফিকেশন (Magnification) সিস্টেম চালু রাখা হয়েছে। তাছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারী গণ টকব্যাক (TalkBack) এর মাধ্যমে শোনাতে সাহায্য করে। তাছাড়া যারা টেক্সটগুলো স্পষ্টভাবে দেখতে চান তাদের জন্য হাই কনট্রাস্ট টেক্সট (High Contrast Text) সিস্টেম চালু রাখা হয়েছে। তাই আপনার মোবাইলটি আপনার ইচ্ছামত ব্যবহার করার জন্য এক্সেসিবিলিটি সেটিংস সঠিকভাবে আছে কিনা দেখে নিন।
১০। ডেভলপার অপশনস - Developer Options (এডভান্স ব্যবহারকারীদের জন্য)
ডেভলপার অপশনস - Developer Options এর মাধ্যমে android ফোনের পারফরম্যান্স অপটিমাইজ করা যায়, ডিবাগিং সেবা চালু রাখা কিংবা বিশেষ কিছু হ্যাচার পরীক্ষা করার সুবিধা পাওয়া যায় যেটা সাধারণত সাধারণ সেটিংসে পাওয়া যায় না বললেই চলে। সুতরাং আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি যদি আপনার কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করতে চান তাহলে ইউএসবি ডিবাগিং (USB Debugging) ব্যবহার করুন। তাছাড়া আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের সেটিংসে গিয়ে এনিমেশন স্কেল কমিয়ে দিলে আপনার ফোনটি আরো দ্রুত কার্যকরী হবে।
FAQ (প্রশ্নোত্তর) - অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস
Q1. অ্যান্ড্রয়েড সেটিংস কি?
উত্তর: অ্যান্ড্রয়েড সেটিংস হলো একটি অ্যাপ যা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ডিভাইসের মধ্যে অন্তর্নির্মিত একটি বিশেষ অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীগণ তাদের প্রয়োজন এবং পছন্দ অনুযায়ী সাজিয়ে নিতে পারেন।
Q2. অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সিস্টেম সেটিংস কোথায় থাকে?
উত্তর: Android ফোনে সিস্টেম সেটিংস টি দেখতে হলে আপনাকে মোবাইলের স্ক্রিনের দেশ থেকে ওপর দিকে শোয়াইপ করতে হবে। সেটিংস অ্যাপটি খুঁজতে থাকুন, যেটি দেখতে ঠিক গিয়ার হুইলের মত। তারপর সেটি খুলতে তার ওপর ট্যাপ করে চেপে ধরুন। কিছুক্ষণ পর সাউন্ডস এবং ভাইব্রেশন হলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী অপশন বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় ও পছন্দনীয় সেটিংস গুলো করে নিন।
Q3. অ্যান্ড্রয়েড সেটআপ আ্যাপ কি প্রয়োজন?
উত্তর: হ্যাঁ। অ্যান্ড্রয়েড সেটআপ আ্যাপটি আপনার মোবাইল ফোনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে সেটআপ করাই থাকে।
সর্বশেষ কথা - অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস
বন্ধুরা এতক্ষণ আমরা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস সম্পর্কে আপনাদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল হলে সাধারণত অনেকগুলো সেটিংস থাকে তার মধ্য থেকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস গুলোই আপনাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি 'অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস জেনে রাখুন' লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং বুঝতে পেরেছেন। তারপরেও যদি কোথাও বুঝতে আপনাদের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে ভুলবেন না। লেখাটি পড়ে উপকৃত হয়ে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইল যেন অন্যরাও উপকৃত হতে পারেন। আজ আর নয়। এরকম আরো ভালো ভালো লেখা পেতে হলে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন এবং আমাদের সাথেই থাকুন। আজকের লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url