২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে? কোরবানির ঈদ বাংলাদেশ
২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে? কোরবানির ঈদ বাংলাদেশ।আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক, ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে বা বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ কত তারিখে - জানা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উচিত। কেননা একজন মুসলিম তার ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে ইসলামী পথে জীবন যাপন করবে- এটাই তো হওয়া উচিত।
![]() |
| কোরবানির-ঈদ-কত-তারিখে |
পোস্ট সূচীপত্র:মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুইটি। একটি হল ঈদুল ফিতর এবং আরেকটি হল ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। তবে এই বছর ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা/কোরবানির ঈদ কত তারিখ তা আমরা অনেকেই জানিনা। তাদের কথা বিবেচনা করেই আমরা আজকে ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে বা কোরবানির ঈদ বাংলাদেশে কখন সে সম্পর্কে একটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হয়েছি।
২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে?
আজকে আমরা জানাবো ২০২৬ সালে বাংলাদেশে ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ কত তারিখে, হালাল পশু কোরবানির গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ইসলামের বিধি-বিধান সেই সম্পর্কে বিস্তারিত। ঈদুল আযহা মুসলমানদের আত্মত্যাগ, খারাপ অভ্যাস ও মনের পশুত্বকে জবাই করে ভাতৃত্ব বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। তাছাড়া আগে থেকে ঈদুল আযহার তারিখ জানা থাকলে কোরবানির পশু যেমন- গরু, ছাগল, দুম্বা, উট ইত্যাদি হালাল পশু কেনা সহজ হয়, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করার সিডিউল ঠিক করা যায়। তাহলে চলুন ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
২০২৬ সালের ঈদুল আযহার তারিখ
২০২৬ সালের ঈদুল আযহার তারিখ হল ২৮ শে মে, রোজ বৃহস্পতিবার (চাঁদ দেখা সাপেক্ষ)। প্রতি বছর হিজরি সনের ১২ তম ও শেষ মাস জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ইত্যাদি দেশের হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৬শে মে মঙ্গলবার পবিত্র 'আরাফাত দিবস' পালনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেই হিসেবে তারপর দিন ২৭শে মে বুধবার দেশগুলোতে ঈদুল আযহা পালিত হবে। আর সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ঈদুল আযহা পালনের পরবর্তী দিন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশে ঈদুল আযহা পালিত হয়ে থাকে। সূত্র: গালফ নিউজ
ইসলাম ধর্মের প্রতিটি উৎসব চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদও চাঁদ দেখার উপর নির্ধারিত হয়ে থাকে। সুতরাং চাঁদ দেখা সাপেক্ষ এই ঈদুল আযহার তারিখ একদিন আগে বা পরে হতে পারে। সুতরাং ২০২৬ সালের ঈদুল আযহার তারিখ ২৮ শে মে, বৃহস্পতিবার (চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)।
![]() |
| কোরবানির-ঈদ-কত-তারিখে |
২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে ও প্রস্তুতি
২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে ও প্রস্তুতি জানতে হলে লেখাটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা উচিত। কেননা কোরবানির ঈদের তারিখ ও দিন জানতে পারলে প্রস্তুতি নেওয়াও সহজ হয়। মুসলিম সমাজে কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আযহা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ দিন। তাই এই দিনটিকে ঘিরে উৎসবের আমেজ গড়ে ওঠে। সুতরাং ঈদুল আযহার নামাজের সময়সূচী, কোরবানি ঈদের পশু কেনার বাজেট, আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, গরিব দুখী মানুষের মাঝে দান খয়রাত এবং পরিবারের কেনাকাটার জন্য ঈদুল আযহার তারিখ ও দিন জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরী।
সাধারণত বাংলাদেশ এর মত দেশে কোরবানি ঈদের কয়েকদিন আগে পশু কেনাবেচার হাট জমে ওঠে। তাই আগেভাগে হালাল পশু কেনা জরুরী হয়ে পড়ে। কেননা কোরবানি ঈদের প্রধান আমল হল পশু কোরবানি দেওয়া। তাই পছন্দ মত পশু কেনা এবং তা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি দেওয়া অন্যতম প্রধান কাজ। সেই সাথে কোরবানির গোশত নিজে খাওয়া, আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিতরণ করা এবং গরীব দুঃখীর মাঝে বন্টন করে ঈদ উল আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়াও অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এজন্য ২০২৬ সালের কোরবানি ঈদ কবে জানা থাকলে পরিকল্পনা গুলো আরো সহজ এবং ফলপ্রসূ হবে। তাই বলা যায় ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ কবে তা সঠিকভাবে আগেই জানা থাকলে ঈদের প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে। এজন্য আবারও বলে রাখি- ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ হবে ২৮ মে, বৃহস্পতিবার (চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)।
২০২৬ সালের ঈদুল আযহার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিন
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন/বিটিভি/বাংলাদেশ বেতার এর ঈদ উল আযহার তারিখ ঘোষণা নিশ্চিত করুন।
- বাড়ি যাওয়ার জন্য কমপক্ষে ১৫/২০ দিন আগে টিকিট বুকিং দিন।
- কোরবানির ঈদের ৫/৭ দিন আগে আপনার প্রিয় কোরবানির পশু যেমন গরু, ছাগল, দুম্বা, উট নির্বাচন করুন।
- কোরবানি ঈদের অন্যান্য কেনাকাটা যেমন পোশাক, জুতা, সেমাই, জায়নামাজ, সুগন্ধি ইত্যাদি ৭/১০ দিন আগেই করুন।
- কোরবানি ঈদের আগের রাতে ঈদের জামাতের স্থান ও সময় জেনে ঈদের নামাজের প্রস্তুতি নিন।
- কোরবানির দিন নিজে অথবা ভালো আলেম দ্বারা কোরবানির পশু কোরবানি দিন।
- এরপর কোরবানির গোশত সমান তিন ভাগে ভাগ করুন - এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, দ্বিতীয় ভাগ আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীর জন্য এবং তৃতীয় ভাগ গরিব-দুঃখী মিসকিনদের জন্য নির্ধারণ করে বন্টন করুন।
![]() |
| কোরবানির-ঈদ-কত-তারিখে-বাংলাদেশ |
ঈদুল আযহায় যে সব ভুল এড়িয়ে চলবেন
- চাঁদের ঘোষণা না শুনে ঈদের পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না।
- কোরবানির পশু কেনার নিয়ম-কানুন ও বন্টনের হিসাব না জানা।
- শেষ মুহূর্তে কোরবানির পশু কেনাকাটা না করা।
- টিকিট না কেটে গণপরিবারে চরম ভিড়ের মাঝে না ওঠা।
- ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকবে, তাই প্রয়োজনীয় টাকা হাতে না রাখা।
- ঈদুল আযহায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন
- কোরবানির যাবতীয় বর্জ্য ও রক্ত নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।
- সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে হাড় ও চামড়া রাখুন।
- কোরবানির গোশত সঠিকভাবে সেদ্ধ করে খাবেন।
- কোরবানির অতিরিক্ত গোশত ফ্রিজের নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন।
২০২৬ সালের ঈদুল আযহার তাৎপর্য ও গুরুত্ব
২০২৬ সালের ঈদুল আযহার তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আযহার ঈদ পালিত হবে ২৮ মে, বৃহস্পতিবার যা চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। এর থেকে একদিন আগে বা পরে হতে পারে। মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আঃ কে তাঁর আত্মত্যাগের পরীক্ষা করার জন্য প্রিয় বস্তুকে কোরবানি দিতে বলেন। হযরত ইব্রাহিম বিভিন্ন পশু আল্লাহর নামে কোরবানি দিলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারপর তিনি স্বপ্নে দেখেন, মহান আল্লাহ তাঁকে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ কোরবানি দিতে বলেন। তিনি অনেক ভেবে চিন্তে দেখলেন যে তার একমাত্র শিশু সন্তান ইসমাইল আঃ অত্যন্ত প্রিয় জন এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তখন তিনি প্রিয় শিশু-সন্তানকে মহান আল্লাহর নির্দেশের কথা বলেন। এতে তাঁর প্রিয় সন্তান আল্লাহর নির্দেশের কথা শুনে রাজি হয়ে গেলেন। এরপর তিনি যখন সন্তানকে কোরবানির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে কোরবানি দিতে চেষ্টা করছিলেন কিন্তু কোন মতেই তাঁর ধারালোঅস্ত্র দিয়ে শিশু সন্তান ইসমাইলের আঃ গলা কাটতে পারছিলেন না।
এমত অবস্থায় তিনি চোখ বন্ধ করে আবার কোরবানির উদ্দেশ্যে ছুরি চালালে চোখ খুলে দেখেন যে তাঁর সন্তানের পরিবর্তে একটি দুম্বা আল্লাহর উৎসর্গে কোরবানি হয়ে গেছে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে এজন্য কোরবানিকে "সুন্নতে ইব্রাহিমি" নামেও অভিহিত করা হয়। এ থেকে বোঝা যায় মহান আল্লাহর দরবারে কোরবানি দিতে হলে নিজ সন্তানের মতোই আদর যত্নে বড় করা হালাল পশু কোরবানি দেওয়া উত্তম। তাছাড়া মনের মধ্যে যত হিংসা, গ্লানি ও পশুত্ব রয়েছে সেগুলো কেউ কোরবানি দেওয়া উচিত অর্থাৎ সেই খারাপ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করা উচিত। সুতরাং ঈদুল আযহার তাৎপর্য এবং গুরুত্ব কতটুকু তা কোরবানির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
ঈদুল আযহার মূল শিক্ষাই হল আত্মত্যাগ, পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় এবং সমাজের ছোট বড়, ধনী-গরীব সকলের সাথে সমতা বজায় রাখা। তাই ঈদুল আযহা প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মুসলিম সমাজ তথা সারা বিশ্বের মানুষের জন্য সুখকর ও শান্তিময় বার্তা নিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা সকলেরই। আমরা যেন ঈদুল আযহা তথা কোরবানি ঈদের তাৎপর্য ও গুরুত্ব ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে সে প্রচেষ্টা সকলেরই থাকা উচিত। বাংলাদেশে ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদ ২৮ শে মে, বৃহস্পতিবার।
FAQ (প্রশ্নোত্তর) - ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে? কোরবানির ঈদ বাংলাদেশ
Q1. ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে?
উত্তর: ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা ২৭/২৮ মে, বুধবার/বৃহস্পতিবার (চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)।
Q2. ঈদুল আযহা জিলহজ্ব মাসের কত তারিখে হয়?
উত্তর: ঈদুল আযহা জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে শুরু হয় হয় এবং ১২ তারিখে শেষ হয় (মোট তিন দিন)।
Q3. ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি কতদিন?
উত্তর: মোট সরকারি ছুটি ৬ দিন। নির্বাহী আদেশে ২০২৬ সালের ২৭ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত(চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)।
Q4. ২০২৬ সালে সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, কুয়েতে ঈদুল আযহা কবে?
উত্তর: এসব দেশে ঈদুল আযহা পালিত হবে ২৭ মে, বুধবার (চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)।
Q5. ২০২৬ সালের ঈদুল আযহার আরাফাতের দিন কবে?
উত্তর: আরাফাতের দিন হবে আরবি ৯ জিলহজ এবং ইংরেজি তারিখ ২৬শে মে, মঙ্গলবার।
Q6. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: ঈদুল ফিতর/রোজার ঈদ পালিত হয় রমজান মাস শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে এবং ঈদুল আযহা পালিত হয় জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত মোট ৩ দিন।
Q7. ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার মধ্যে ব্যবধান কতদিন?
উত্তর: ৭০ দিন।
সর্বশেষ কথা - ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে? কোরবানির ঈদ বাংলাদেশ
২০২৬ সালের ঈদুল আযহা/কোরবানির ঈদ বাংলাদেশ কত তারিখে তা জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রস্তুতির ও ব্যাপার থাকে। এ বছর ২০২৬ সালের ঈদুল আযহার তারিখ হল ২৮ শে মে, বৃহস্পতিবার যদিও চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল তবুও আগে থেকেই জানা থাকলে পশু ক্রয় করা, বাজেট পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন স্পটে ঘুরতে যাওয়ার সিডিউল ঠিক করা সহজ হয়। কোরবানির ঈদ একটি আত্মত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব এবং সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার শিক্ষা দেয়। প্রিয় পাঠক আশা করি আজকের লেখাটি পড়ে আপনি বিস্তারিত জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। লেখাটি পড়ে উপকৃত হয়ে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইল যেন অন্যেরাও সঠিক তথ্যটি জানতে পারেন। লেখার মধ্যে কোন ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আরো কিছু জানার থাকলে আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। আজকের "২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কত তারিখে? কোরবানির ঈদ বাংলাদেশ" লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক আন্তরিক ধন্যবাদ।




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url