৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম জেনে রাখুন

৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম জেনে রাখুন। আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক আপনি কি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম, জ, ব, র, ম, হ, ত, ন ইত্যাদি অক্ষর দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নাম জানতে ইচ্ছুক?
জান্নাতের-সুসংবাদপ্রাপ্ত-মহিলা-সাহাবীদের-নাম
পোস্ট সূচিপত্র: ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামতাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় আছেন। কেননা আজকে আপনাদের জানাবো, ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম এবং বাংলা জ, ব, র, ম, হ, ত, ন ইত্যাদি অক্ষর দিয়ে মহিলা সাহাবীদের নাম, নামের অর্থ ও প্রশ্নোত্তর।
৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম
ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনেক সৌভাগ্যবান সাহাবী দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে যেমন পুরুষ সাহাবী ছিলেন তেমন মহিলা সাহাবীও ছিলেন। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত পুরুষ ও মহিলা সাহাবীগণ তাদের নিজ নিজ চরিত্র, ঈমান ও আত্মত্যাগের মহিমায় গুণান্বিত ও অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সাহাবীগণ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আকুন্ঠ আনুগত্য, নিবেদিত প্রাণ, ধৈর্য, ইবাদত, দান-সদকা এবং নীতি-নৈতিকতায় এমন উচ্চ পর্যায় পৌঁছে যান, যার কারণে দুনিয়াতেই তাঁদের জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আজকে আমরা এই রকম সৌভাগ্যবতী ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের আদর্শ, অনুপ্রেরণা এবং পথ নির্দেশনার উজ্জ্বল সাক্ষী স্বরূপ তাদের পরিচিতি জানবো। নিচে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ৮ জন মহিলা সাহাবীদের নাম উল্লেখ করা হলো।
১। হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)
২। হযরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)
৩। হযরত সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রা.)
৪। হযরত হাফসা বিনতে ওমর (রা.)
৫। হযরত ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)
৬। হযরত আসমা বিন্তে আবু বকর (রা.)
৭। হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)
৮। হযরত উম্মে সুলায়েম গুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.)।
বিভিন্ন হাদিস থেকে যতদূর সম্ভব জানা যায়, উপরোক্ত ৮ জন সৌভাগ্যবতী মহিলা সাহাবী তাঁদের জীবদ্দশাতেই জান্নাতের বা বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। এই ৮ (আট) জন সৌভাগ্যবতী জান্নাতি নারীদের মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম প্রিয় নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই সুসংবাদ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জানিয়েছিলেন, যা বিভিন্ন আদেশ দ্বারা প্রমাণিত। তাহলে এখন চলুন ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
১। হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)। তিনি ছিলেন খুয়াইলিদ এর কন্যা এবং প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম ও সবচেয়ে প্রিয়তমা স্ত্রী। হযরত খাদিজা ছিলেন আল্লাহ তাঁর রাসূল সাঃ এর প্রতি ঈমান ও সমর্থন করা প্রথম মানুষ, যিনি নারী-পুরুষের মধ্যে সর্বপ্রথম ঈমানদার মানুষ। অর্থাৎ তিনি নারী এবং পুরুষের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সেই সময় আরব দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছিলেন এবং আল্লাহ ও নবীজির প্রতি ঈমান এনে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ব্যাপকভাবে আর্থিক ও মানসিক সমর্থন যুগিয়েছিলেন। এজন্য তাকে ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম নারীদের একজন বলা হয়ে থাকে। তিনি জীবিত থাকতেই জিব্রাইল আঃ এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম এবং জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন।
হযরত খাদিজা রা. এর জান্নাতের সুসংবাদ ঘটনা ও হাদিস
হযরত আবু হুরায়রা রা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন হযরত জিব্রাইল আঃ আল্লাহর রাসূল সাঃ এর নিকট এসে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল সাঃ! এই যে খাদিজা আপনার কাছে আসছেন, তাঁর সাথে একটি খাবার পাত্র রয়েছে, যেটিতে তরকারি বা খাবার বা পানীয় রয়েছে। তিনি আপনার নিকট এসে পৌঁছালে তাঁকে তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে সালাম বলবেন এবং তাঁকে বেহেশতে একটি বাঁশের ঘরের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোন কষ্ট কিংবা কোলাহল থাকবে না। (সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম) এভাবেই মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত খাদিজা রা. কে সম্মানিত করেন এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সুসংবাদ দেন।
২। হযরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)
হযরত আয়েশা ছিলেন ইসলামের প্রধান চারজন খলিফার মধ্যে প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) এর কন্যা এবং প্রিয় নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বকনিষ্ঠ প্রিয়তমা স্ত্রী। হযরত আয়েশা রা. এর পিতা আবু বকর (রা.) প্রথম পুরুষ মানুষ হিসেবে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ প্রতি ঈমান এনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আবু বকর (রা.) সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেরাজ গমনের খবর সর্বপ্রথম বিশ্বাস করেছিলেন এজন্য তাঁকে 'সিদ্দিক বা বিশ্বাসী' উপাধি দেওয়া হয়েছে।
হযরত আয়েশা রা. এর জান্নাতের সুসংবাদ ঘটনা ও হাদিস
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের মধ্যে আরও একজন হলেন হযরত আয়েশা রা., যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অধিক সময় স্ত্রী হিসেবে কাটিয়েছেন। জান্নাতের সুসংবাদ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। হযরত জিবরাঈল আঃ একদিন একটি সবুজ রঙের রেশমি কাপড় পরে তাঁর (হযরত আয়েশা রা.) এর প্রতিচ্ছবি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিয়ে বলেন - ইনি (হযরত আয়েশা রা.) দুনিয়া এবং আখিরাতে আপনার স্ত্রী। (সহিহ বুখারী)
৩। হযরত সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রা.)
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের মধ্যে আরও একটি নাম হল হযরত সুমাইয়া রা., তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ এবং প্রথম নারী শহীদ। তিনি একজন হাবসি কৃষ্ণাঙ্গ দাসী, বর্তমান ইথিওপিয়া এর অধিবাসী ছিলেন। ইসলামে প্রথম যে ৭ জন প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ঘোষণা দেন তাদের মধ্যে হযরত সুমাইয়া রা. একজন। তিনি ইসলামের প্রথম ভাগেই স্বামী ইয়াসির এবং ছেলে আম্মার গোপনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। এর ফলে তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু করে আবু জেহেলের কুরাইশ বংশের লোকজন। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, এই নির্মম অত্যাচারের সময়েই হযরত সুমাইয়া রা., তাঁর স্বামী ইয়াসির এবং ছেলে আব্দুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন অর্থাৎ শহীদ হন। যতদূর জানা যায়, ৬১৫ খ্রিস্টাব্দে আবু জেহেল সন্ধ্যায় হযরত সুমাইয়া রা. কে অকথ্য-অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার একপর্যায়ে বর্শা ছুড়ে তাঁর যৌনাঙ্গে আঘাত করলে তিনি শহীদ হন।
হযরত সুমাইয়া রা. এর জান্নাতের সুসংবাদ ঘটনা ও হাদিস
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নামের মধ্যে আর একজন হলেন হযরত সুমাইয়া রা. তিনি উম্মে আম্মার নামেও পরিচিত। মক্কার আবু জাহেল ও তার কুরাইশ বংশের লোকেরা হযরত সুমাইয়া রা এর পরিবারের সকলকে লোহার বর্ম পরিয়ে মক্কার আল-বাতহা মরুভূমির প্রচন্ড রোদে দাঁড় করিয়ে রাখত। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, একদিন রাসূল সাঃ যাত্রা পথে সুমাইয়ার পরিবারকে শাস্তি দিতে দেখেন এবং তাদের জন্য মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ওসমান ইবনে আফনান নিজেও সুমাইয়ার পরিবারের উপর অত্যাচারের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অত্যাচারিত অসহায়ত্ব অবস্থা দেখে বলেন - ' হে ইয়াসিরের (সুমাইয়ার স্বামী) পরিবারবর্গ ধৈর্য ধরো, তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত রয়েছে'। তখন হযরত সুমাইয়া রা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতেন - 'ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! আমি জান্নাতের সুগন্ধ এই তপ্ত মরুভূমির বুকেই শুয়ে পাচ্ছি'। (সূত্র: উইকিপিডিয়া; সীরাতে ইবনে হিশাম)

মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রেরিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান এনে সীমাহীন নির্মম নির্যাতন সহ্য করে ইসলামের উপর অটল থেকে শাহাদাত বরণ করার কারণে তিনি তাঁর জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সংবাদ পেয়েছিলেন।
৪। হযরত হাফসা বিনতে ওমর (রা.)
জীবদ্দশাতে যে ৮ জন সৌভাগ্যবতী মহিলা সাহাবী জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন হলেন হযরত হাফসা (রা.)। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রা এর সুযোগ্য কন্যা এবং আমাদের প্রিয় নবী ও রাসুল সাঃ এর অন্যতম সম্মানিত স্ত্রী। তিনি 'উম্মুল মু'মিনিন' বা 'বিশ্বাসীদের মা' হিসেবে পরিচিত। তিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভের ৫ বছর আগে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্ত, শিক্ষা এবং ধর্মভীরতায় অনন্য ছিলেন।
হযরত হাফসা (রা.) এর প্রথম স্বামী ছিলেন কুরাইশ গোত্রের সাহসী সাহাবী খুনাইস (রা.) এবং তারা দুজনেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু ওহুদের যুদ্ধে হযরত হাফসা (রা.) এর স্বামী খুনাইস (রা.) গুরুতর আহত হন এবং পরে শহীদ হন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে হযরত হাফসা (রা.) বিধবা হওয়াই পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেন।
হযরত হাফসা (রা.) এর জান্নাতের সুসংবাদ ঘটনা ও হাদিস
হযরত হাফসা (রা.) খুবই বুদ্ধিমতী এবং আরবের অল্প কয়েকজন স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন নারীদের মধ্যে একজন। আবু বকরের খিলাফতের সময় সাহাবী জায়েদ ইবনে সাবিত কে আল কুরআন কে গ্রন্থাগার হিসেবে সংকলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংকলিত কোরআন শরীফটি হযরত হাফসা (রা.) এর নিকট সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়। তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমানের খেলাফত কালে হযরত হাফসা (রা.) এর নিকট সংরক্ষিত কোরআন শরীফ থেকে প্রামাণ্য ধরে আরো কপি তৈরি করা হয়। কিন্তু কোন এক কারণে রাসূলুল্লাহ সাঃ একবার হযরত হাফসা (রা.) কে তালাক দিয়েছিলেন। তখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাইল আঃ এসে রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলেন, 'হযরত হাফসা (রা.) প্রচুর রোজা রাখেন এবং নামাজ আদায় করেন। তিনি আপনার জান্নাতের স্ত্রী এবং তাঁকে ফিরিয়ে নিন'। (মুস্তাদরাক হাকিম) আর এভাবেই মহান আল্লাহ তা'আলা জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে হযরত হাফসা (রা.) কে ইসলামের প্রতি আনুগত্য ও নিবেদিত প্রাণের জন্য তাঁর জীবদ্দশাতেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।
৫। হযরত ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)
আখেরি জামানার শেষ নবী ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উম্মুল মু'মিনীন হযরত খাদিজা (রা.) দম্পতির এর কনিষ্ঠ সর্বাপেক্ষা প্রিয় কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.) দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই ও ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত আলী (রা.) এর সহধর্মিনী এবং ইমাম হাসান-হুসাইন (রা.) এর মাতা।
হযরত ফাতিমা (রা.) এর জান্নাতের সুসংবাদ ঘটনা ও হাদিস
হযরত ফাতিমা (রা.) কে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীর প্রমাণ হিসেবে 'সাইয়্যেদাতুন নিসা আল-জান্নাহ' বা বেহেশতের নারীদের নেত্রী উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। অন্য এক হাদিস থেকে জানা যায়, হযরত আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন, নবী করীম সাঃ বলেছেন "মরিয়ম, ফাতিমা, খাদিজা এবং আসিয়া - এই ৪ জন নারী হচ্ছে যুগ অনুসারে জান্নাতের নারীদের নেত্রী"। হযরত হুজাইফা রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন - "এমন একজন ফেরেশতা যিনি কখনো পৃথিবীতে আসেননি, তিনি আমাকে সালাম দিয়ে জানিয়েছেন, ফাতিমা জান্নাতের নারীদের নেতা এবং তাঁর পুত্রদ্বয় হাসান-হোসাইন জান্নাতের যুবকদের নেতা"।(সুনানে তিরমিজি)
হযরত ফাতিমা (রা.) এর মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর উপর ঈমান এনে এবং চরম দুঃখ-দুর্দশা ও দারিদ্র্যতায় নিমজ্জিত থাকার পরেও ইসলামের প্রতি আকুন্ঠ সমর্থনের জন্য তিনি জান্নাতের সংবাদপ্রাপ্ত হন।
৬। হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)
হযরত আসমা (রা.) ছিলেন ৮ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের একজন। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম যুগে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়নকারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ তম ব্যক্তি। তিনি পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী এবং ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর কন্যা। তিনি এমন একজন সৌভাগ্যবতী নারী ছিলেন যার পিতা, পিতামহ, বোন, পুত্র এবং স্বামী সকলেই রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিশিষ্ট সাহাবী ছিলেন। আর তাঁর স্বামী রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জুবায়ের ইবনুল আউয়াম রা. ছিলেন ১০ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীদের একজন। তিনিই সর্বপ্রথম আব্দুল্লাহ ইবনে জোবায়ের নামে মুসলমান শিশুর জন্ম দেন।
হযরত আসমা (রা.) এর জান্নাতের সুসংবাদ ঘটনা ও হাদিস
ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং হযরত আসমা (রা.) এর পিতা হযরত আবু বক্কর রা. হিজরতের সময় রাতের বেলায় থলিতে কিছু পাথেয় খাবার এবং মশকে পানি গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু থলির মুখ বাঁধার জন্য কোন দড়ি বা রশি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এমন সময় হযরত আসমা (রা.) নিজেই তাঁর কোমরের নিতাক বা বন্ধনী খুলে দুই টুকরো করে কেটে এক টুকরো দ্বারা থলির মুখ বেঁধে দিলেন এবং অন্য টুকরো দিয়ে মশকের মুখ বেঁধে দিলেন। তাঁর এ নিঃস্বার্থ সহযোগিতা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে 'জাতুন নিতাকাইন' অর্থাৎ দু'টি কোমর বন্ধনীর অধিকারিনী বলে সম্বোধন করলেন। এরপর তিনি মহান আল্লাহর দরবারে হযরত আসমা রা. এর জন্য দোয়া করেছিলেন - 'হে আল্লাহ! এর বিনিময়ে জান্নাতে তাঁকে দুটি নিতাক দান করুন'। আর এভাবেই তিনি 'জাতুন নিতাকাইন' উপাধি লাভ করেছিলেন এবং জীবদ্দশাতেই মহিলা সাহাবী হিসেবে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত 8 জন মহিলা সাহাবীদের একজন ছিলেন হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url