সাইবার সিকিউরিটি (Cyber Security) কি? এর গুরুত্ব এবং শেখার সহজ উপায় জানুন
প্রিয় পাঠক, আপনি কি 'সাইবার সিকিউরিটি কি, কত প্রকার, এর গুরত্ব ও ব্যবহার এবং Cyber Security শেখার সহজ উপায়' সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? কেননা বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে আর্থিক ও সামাজিক নারাপত্তার জন্য আপনাকে সাইবার সিকিউরিটির ব্যাপারে অবশ্যই স্বচ্ছ ধারণা রাখতেই হবে।
![]() |
| Cyber-security-Bangladesh |
পোস্ট সূচিপত্র:আজকের ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের সকলের ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে ব্যাংক ব্যালেন্স, ব্যবসা-বাণিজ্য সহ সকল পেশাগত তথ্য আজ ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। আর এই নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে একদল অপরাধী নানা ভাবে আমাদের তথ্য চুরি, জালিয়াতি এবং আর্থিক ক্ষতি সাধন করে থাকে, যাদের সাইবার অপরাধী বলা হয়। মূলত এসব থেকে আত্মরক্ষার জন্যই আপনাকে সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জানতে হবে। আর এই সচেতনতার জন্যই আমরা আজকে আমাদের "Faruk Shahina123" ব্লগে এ সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা নিয়ে হাজির হয়েছি।
সাইবার সিকিউরিটি (Cyber Security) কি? এর গুরুত্ব এবং শেখার সহজ উপায়
আজকে আমরা জানাবো সাইবার সিকিউরিটি (Cyber Security) কি, এর কাজ কি, এর গুরুত্ব ও কেন জরুরী, কিভাবে সাইবার সিকিউরিটি শিখতে হয় এবং সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা ইত্যাদি সম্পর্কে। বর্তমান ইন্টারনেটের মূল চাবি হচ্ছে ডাটা বা তথ্য। এই তথ্য ছাড়া ইন্টারনেট পুরোপুরি অচল বলা যেতে পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই ডাটার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা বরাবরই উদাসীনতা দেখিয়ে থাকি।
বর্তমান আমরা ইন্টারনেটে প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং বা সাইবার হামলার কথা শুনে থাকি। সাধারণত আমাদের অনলাইন বা ইন্টারনেট সুরক্ষা নিয়ে বিশেষত অনীহার কারণেই এ ধরনের হামলা বা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এতে করে আমাদের অনেক ব্যক্তিগত ও পেশা ভিত্তিক তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায়। এর ফলে আমরা আর্থিক এবং সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকি। মূলত এ সকল সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যই আমাদের সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করা অতীব জরুরী দরকার। তাহলে চলুন প্রথমে আমরা সাইবার সিকিউরিটি কি এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
সাইবার সিকিউরিটি কি (What is Cyber Security)?
সাইবার সিকিউরিটি (Cyber Security) হলো এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়া যা অনলাইনে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ডাটা, ডিভাইস এবং নেটওয়ার্ককে সাইবার হ্যাকারদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করে। সাইবার সিকিউরিটি মূলত সাইবার হামলা, জরুরী তথ্য চুরি, ভাইরাস দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধ্বংস করা এবং ইন্টারনেট চালিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস হ্যাকিং থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ডিজাইন করা একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা (A protective measure)। এক কথায় বলতে গেলে, সাইবার সিকিউরিটি আমাদের ডিজিটাল (Digital) দুনিয়ার নিরাপত্তার জন্য ঢাল (A shield for security) হিসেবে কাজ করে।
আরো সহজ কথায়, সাইবার সিকিউরিটি (Cyber Security) হলো যেকোনো মূল্যে কম্পিউটার, মোবাইল সহ যে সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেটওয়ার্ক দিয়ে চলে তা হ্যাকারদের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়াকে সাইবার সিকিউরিটি বলে। ডিভাইসের এই সুরক্ষা বলতে সাধারণত নিচের বিভিন্ন হ্যাকিং থেকে সিস্টেমকে রক্ষা করাকে বুঝিয়ে থাকে। যেমন -
- ম্যালওয়্যার (Malware)
- রেঞ্জমওয়্যার (Ransomware)
- অ্যাডওয়্যার (Adware)
- ট্রোজান (Trojan)
- ফিশিং (Phishing)
- ব্রুট-ফোর্স (Brute-force)
- ডিডস (Deeds)
- সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (Social Engineering) ইত্যাদি।
এখন চলুন সাইবার সিকিউরিটি কত প্রকার এবং কি কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
![]() |
| সাইবার-সিকিউরিটি-কি |
সাইবার সিকিউরিটি কত প্রকার ও কি কি (What are the different types of Cybersecurity)?
দিন দিন সাইবার আক্রমণ বা হামলা গুলো আরো জটিল হচ্ছে তাই বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সাইবার সিকিউরিটি সাধারণত বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, যেমন - নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি, মোবাইল সিকিউরিটি, ক্লাউড সিকিউরিটি, তথ্য সুরক্ষা এবং এআই (AI) সিকিউরিটি ইত্যাদি।
নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি (Network Security)
নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি (Network Security) হলো ইন্টারনেটের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য ট্রান্সফারের সময় হ্যাকিং ম্যালওয়্যার বা অবৈধ এক্সেস থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা। এটা নেটওয়ার্কের ভেতরের এবং বাহিরের উভয় আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এতে ফায়ারওয়াল, ভিপিএন, এনক্রিপশন এবং ইন্ট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম (IDS) ব্যবহার করা হয় যাতে করে কোন আনঅথরাইজড ব্যক্তি নেটওয়ার্কের প্রবেশ করতে না পারে।
অর্থাৎ আপনি যদি আপনার নেটওয়ার্ক কে যথেষ্ট পরিমাণে নিরাপত্তা দিতে পারেন তাহলে আপনার ডিভাইস হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা ৮০% কময়ে আনা সম্ভাব। একটা কথা সবার মনে রাখতে হবে, সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে চাইলে সবার প্রথমে নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি সুনিশ্চিত করতে হবে। নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি ব্যতীত কখনোই সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি (Application Security)
আমরা যখন কোন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করি তখন সেই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে হ্যাকিং বা ডাটা লিক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি (Application Security) নিশ্চিত করে যে সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে কোন ত্রুটি নেই, যা ডাটা লিক করতে পারে। এতে অ্যাপ্লিকেশন কোড রিভিউ, সিকিউরিটি প্য়াচিং এবং নিরাপদ কোডিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যাতে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সময় হামলাকারীরা কোন সুযোগ না পায়।
মোবাইল সিকিউরিটি (Mobile Security)
মোবাইল সিকিউরিটি (Mobile Security) হলো বিশেষ করে স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং ট্যাবলেটের নিরাপত্তা সম্পর্কিত সিকিউরিটি। আজকাল স্মার্ট মোবাইল ফোন ডিভাইস গুলো আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের বৃহত্তম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে আমাদের পার্সোনাল ছবি, ভিডিও আপলোড করা থাকে। এর পাশাপাশি কাজের সুবিধার্থে আমরা business details এবং ব্যাংকিং রিলেটেড তথ্যও মোবাইলে রাখি।
বিশেষ করে ফিনান্সিয়াল এবং ব্যাংকিং রিলেটেড ডাটা থাকার কারণে মোবাইল গুলোকে হ্যাকাররা বেশি টার্গেট করে থাকে। কিন্তু আমরা মোবাইল ডিভাইসের বিষয়ে খুব একটা সিকিউরিটি নিয়ে চিন্তা করি না। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যেকোনো ফিশিং লিংকে প্রবেশ করে বা পাইরেটেড সাইট থেকে বিভিন্ন অ্যাপ ডাউনলোড করার পাশাপাশি ম্যালওয়্যার ইন্সটল করে ফেলি। যা আমাদের ডিভাইসের ডাটা নিয়ে সরাসরি হ্যাকারদের কাছে পৌঁছে দেয়।
মোবাইল সিকিউরিটিতে ডিভাইস এনক্রিপসন, অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি, পাসওয়ার্ড প্রটেকশন, সকল অ্যাপ আপডেট রাখা, লোকেশন ট্রাকিং সচল রাখা এবং রিমোট ডাটা ওয়াইপিং প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি মোবাইলের লক স্ক্রিন, স্ট্রং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, পাবলিক ওয়াইফাই ইউজ না করা, পাবলিক প্লেসে থাকা USB চার্জার ইউজ না করা মোবাইল সিকিউরিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর ফলে ডিভাইসটি চুরি বা হারিয়ে গেলেও সকল তথ্য সুরক্ষিত থাকে।
ক্লাউড সিকিউরিটি (Cloud Security)
ক্লাউড সিকিউরিটি (Cloud Security) হলো ক্লাউডে জমা করা ডাটা এবং অ্যাপ্লিকেশন গুলোর নিরাপত্তা দেওয়া। আজকাল অনেক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগণ তাদের ডাটা ক্লাউডে সংরক্ষিত করে রাখেন। এ সকল ডাটা নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরী। কারণ ক্লাউডে হামলা হলে সারা বিশ্বের ডাটা একসাথে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্লাউড সিকিউরিটিতে-
- সেট ইন্টেলিজেন্স ও মনিটরিং
- ডাটা ব্যাকআপ
- ডাটা রিকভারি
- এনক্রিপশন
- মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন
- এক্সেস কন্ট্রোল
ইত্যাদি প্রযুক্তি গুলো ও পলিসি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যার ফলে সহজেই ডাটা ব্রিচ সহ সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ করা আরো সহজ হবে।
ডাটা সিকিউরিটি (Data Security)
ডাটা সিকিউরিটি (Data Security) কেই মূলত সাইবার সিকিউরিটি বলা হয়। কারণ ডাটা কে অনেক ভাবেই সিকিউর করা যায়। তবে তাদের মধ্যে এনক্রিপশন, ডাটা মাস্কিং, ডাটা ব্যাকআপ এবং এক্সেস কন্ট্রোল সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমান সময়ে হ্যাকারদের প্রধান টার্গেট থাকে তথ্য বা ডাটা চুরি করা। ডাটা চুরি করার জন্য তারা নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে।
কেননা আমাদের ব্যাংকে তথ্য বা ডাটা, ব্যক্তিগত ডকুমেন্টস, কর্পোরেট ডাটা আমরা সুরক্ষিত করে রাখি। এ সকল সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ করার জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার করতে হবে। এই প্রযুক্তি গুলো সকল ধরনের অবৈধ লগইন প্রতিরোধ করে থাকে। যে কারণে অবাঞ্ছিত কেউ ডিভাইস একাউন্টে লগইন করতে পারে না এবং আমাদের ডাটা সুরক্ষা (Data Security) নিশ্চিত হয়ে থাকে।
এআই সিকিউরিটি (AI Security)
এআই সিকিউরিটি (AI Security) হলো এমন একটি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি যা সাইবার অ্যাটাক এবং হুমকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে যখন আক্রমণ এআই অ্যাপ্লিকেশন বা সিস্টেমকে লক্ষ্য করে বা যারা এআইকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। বিশেষ করে হ্যাকাররা দুষ্টু প্রম্পট ব্যবহার করে এআই অ্যাপ্লিকেশন গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ডাটা সোর্সকে ম্যানিপুলেট করে এআই আউটপুট বিকৃত করতে পারে এবং এমনকি এআই টুলসকে সিকরেট তথ্য শেয়ার করতে প্ররোচিত করতে পারে। ইতিমধ্যে হ্যাকাররা এআই ব্যবহার করে ক্ষতিকারক কোড এবং ফিশিং ইমেইলও তৈরি করতে পারে। এআই সিকিউরিটি আমাদের এসব এআই আক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।
![]() |
| সাইবার-সিকিউরিটি |
প্রিয় পাঠক, উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন ধরনের সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা অনলাইনে এবং ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের নিজেদের এবং আমাদের তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে পারি। প্রতিটি ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্দিষ্ট হুমকি বা আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ডিজিটাল হামলাকারীরা আমাদের উপর আক্রমণ করতে না পারে। সবচেয়ে নিজেকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে তাহলে সাইবার আক্রমণ থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সাইবার সিকিউরিটির গুরুত্ব
আজকাল সাইবার সিকিউরিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সাইবার নিরাপত্তা আমাদের ব্যক্তিগত, পেশাগত, ব্যবসায়িক নিরাপত্তা এবং জাতীয় জীবনে সুরক্ষা নিশ্চিতে সাহায্য করে।
কিভাবে সাইবার সিকিউরিটি শিখতে হয় (How to learn Cyber Security)?
সাইবার সিকিউরিটি (Cyber Security) শিখতে কিছু বিশেষ দক্ষতা আর নলেজ দরকার হয়। যেমন- কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং নলেজ, নেটওয়ার্কিং ধারণা, অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে নলেজ, সাইবার অ্যাটাকের ধরন জানা, সাইবার সিকিউরিটি টুলস ইউজ করতে জানা, প্রবলেম সলভিং দক্ষতা ইত্যাদি আপনার জানা থাকতে হবে। এটা এমন একটা ফিল্ড যেখানে প্রযুক্তি বা টেকনোলজি আর ক্রিয়েটিভিটির কম্বিনেশনের প্রয়োজন হয়। সাইবার সিকিউরিটি শিখতে হলে আপনার কি কি জানা লাগবে সে সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
প্রোগ্রামিং নলেজ (Programming Knowledge)
সাইবার থ্রেট (Cyber threat) বুঝতে আর সিকিউরিটি সলিউশন বানাতে আপনার কোডিং জ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে। তাই সাইবার সিকিউরিটির বেসিক শিখতে প্রোগ্রামিং জানাটা খুবই জরুরী। প্রোগ্রামিংয়ের কিছু দরকারি ল্যাঙ্গুয়েজ হলো:
পাইথন (Python)
পাইথন (Python) হলো পৃথিবীর অত্যন্ত পাওয়ারফুল জনপ্রিয় এবং সহজ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। মানুষ যেমন একে অপরের সাথে বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় কথা বলে ঠিক তেমনি কম্পিউটারের সাথে কথা বলা বা কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়।
একই রকমের কাজকে কম্পিউটারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় (Automatic) ভাবে করে ফেলার জন্য পাইথন ব্যবহার হয়। তাই অটোমেশন স্ক্রিপ্ট আর সিকিউরিটি টুল বানাতে পাইথনের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
সি++ (C++)
সি++ (C++) হলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুতগতির কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। এই ভাষা বা ল্যাঙ্গুয়েজ কম্পিউটারের হার্ডওয়ার বা ভেতরের যন্ত্রাংশের খুব কাছাকাছি থেকে দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারে। এই ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারা সিস্টেম লেভেলের কাজ যেমন- কম্পিউটারের ভাইরাস ডিটেকশন বা সিস্টেম সিকিউরিটির জন্য খুবই দরকারি।
জাভা (Java)
জাভা (Java) হলো আরো একটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়, নিরাপদ এবং শক্তিশালী প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। Java দিয়ে লেখা একটি কোড পরিবর্তন ছাড়াই কম্পিউটার, মোবাইল বা যেকোনো ডিভাইসে চালানো যায়। নেটওয়ার্কিং আর অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটির জন্য এই ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
নেটওয়ার্কিং ধারণা (Networking concepts)
নেটওয়ার্কিং বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং বলতে সাধারণত দুই বা ততোধিক কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস একে অপরের সাথে যুক্ত থাকাকে বোঝায়। সারা পৃথিবীর কোটি কোটি কম্পিউটার ও মোবাইল ইত্যাদি যার (ইন্টারনেট) সাহায্যে একে অপরের সাথে যুক্ত রয়েছে সেটি একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মূল কনসেপ্ট এবং এর কাজ করার পদ্ধতি গুলো অবশ্যই জানা প্রয়োজন। কারণ সাইবার হামলা গুলো অনেকটাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই ঘটে থাকে। নিচে নেটওয়ার্কিং এর মূল কনসেপ্ট গুলো উল্লেখ করা হলো:
- DNS, HTTP/HTTPS, TCP/IP address, Wi-Fi ইত্যাদি প্রটোকল গুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ নলেজ থাকা প্রয়োজন।
- ফায়ারওয়াল আর ভিপিএন (VPN) কিভাবে কাজ করে সেটা জানাও উচিত।
- নেটওয়ার্ক ট্রাফিক এনালাইসিস করার দক্ষতা থাকতে হবে।
অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে নলেজ (Knowledge of operating systems)
অপারেটিং সিস্টেম (Operating System - OS) হলো কম্পিউটারের সবচেয়ে প্রধান সফটওয়্যার, যা কম্পিউটারের হার্ডওয়ারের সাথে ব্যবহারকারীর সংযোগ করিয়ে দিয়ে থাকে। কয়েকটি জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম হলো-
১। কম্পিউটারের জন্য - Desktop and Laptop OS
- Microsoft Windows: বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম। বিশেষ করে কর্পোরেট সেক্টরে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
- Mac OS: এই অপারেটিং সিস্টেমটি শুধুমাত্র অ্যাপেল (Apple) কোম্পানির ম্যাকবুক এবং আইম্যাক কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এটি খুবই নিরাপদ এবং প্রিমিয়াম।
- Linux: এটি একটি ফ্রি এবং ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। হ্যাকার, প্রোগ্রামার এবং বড় বড় কোম্পানিগুলো উইন্ডোজ বাদ দিয়ে এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকেন।
২। মোবাইলের জন্য - Mobile OS
- Android: এটি গুগলের তৈরি সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম। বিশ্ব বিখ্যাত ব্র্যান্ড স্যামসাং (Samsung), শাওমি (Xiaomi), রিয়েলমি (Realme) ইত্যাদি ব্র্যান্ডগুলো এই সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে।
- iOS: এটি আমেরিকার বিখ্যাত অ্যাপেল কোম্পানির তৈরি অপারেটিং সিস্টেম যা আইফোন (iPhone) এবং আইপ্যাডে (iPad) চলে।
আপনাকে উপরে উল্লেখিত বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম (OS) সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা থাকতে হবে। ডিফারেন্ট অপারেটিং সিস্টেমের দুর্বলতা বুঝে সিকিউরিটি প্ল্যান তৈরি করতে হবে।
সাইবার অ্যাটাকের ধরন জানা (Knowing the types of Cyber Attacks)
সাইবার অ্যাটাক (Cyber Attacks) হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন হ্যাকার দ্বারা মোবাইল, কম্পিউটার বা অন্য কোন ডিভাইস নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, তথ্য চুরি করা বা নেটওয়ার্কের ক্ষতিসাধন করা। আপনি যদি সাইবার সিকিউরিটি রাখতে চান তাহলে আপনাকে এগুলো সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। কি কি ধরনের সাইবার হুমকি হয় সেটা জানাও খুব জরুরী। আপনি যদি আক্রমণের ধরন বুঝতে পারেন তবে সেটা প্রতিরোধ করার প্ল্যান সহজ হয়। নিচে কিছু সাইবার অ্যাটাকের ধরন উল্লেখ করা হলো:
১। ম্যালওয়্যার আক্রমন (Malware Attack)
এটি হলো সবচেয়ে পরিচিত সাইবার আক্রমণ। 'ম্যালওয়্যার' শব্দের অর্থ হলো ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম। হ্যাকাররা নির্দিষ্ট করে বা আপনাকে টার্গেট করে আপনার কাছে ফেক ইমেইল বা অন্য কোন উপায়ে ফাইলের মাধ্যমে আপনার ডিভাইসে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে সফটওয়্যার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সিস্টেম অকেজো হয়ে যায়।
Virus
এক ধরনের ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম 'ভাইরাস' যা পুরো ডিভাইসের সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সকল ফাইল নষ্ট করে দিতে সক্ষম।
Ransomware
এটি সব চেয়ে বিপদজনক সাইবার আক্রমণ। এর ফলে কম্পিউটারের সকল ফাইল লক করে দেয় এবং পরবর্তীতে ফাইলগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা দাবি করে। এটা এক ধরনের মুক্তিপণ (Ransom) আদায়।
Spyware
এটি গোপনে আপনার ডিভাইসে লুকিয়ে থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকের তথ্য ও পাসওয়ার্ড ইত্যাদি হ্যাকারদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে আপনি পরবর্তীতে আর্থিক ও সাইবার ভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
২। ফিশিং (Phishing)
ফিশিং (Phishing) হলো এক ধরনের প্রতারণার ফাঁদ। একাররা আপনার Google একাউন্ট, ফেসবুক একাউন্ট বা ব্যাংক একাউন্ট এর মত হুবহু নকল একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে করে আপনাকে ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে একটি লিংক পাঠাবে। এবার আপনি আপনার পাসওয়ার্ড, ইউজার নাম দিয়ে সেই লিংকে লগইন করতে গেলেই আপনার পাসওয়ার্ড ও ইউজার নাম হ্যাকারদের কাছে চলে যাবে। এর ফলে হ্যাকাররা আপনার আসল একাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারবে।
৩। ডি-ডস অ্যাটাক (DDoS Attack)
হ্যাকাররা লাখ লাখ রোবট তৈরি করে বা ভুয়া কম্পিউটারের মাধ্যমে টার্গেটেড কোন ওয়েবসাইটে এত বেশি ট্রাফিক বা ভিজিটর পাঠায় যে সেই ওয়েবসাইট লোড নিতে না পারে ক্র্যাশ করে। এর ফলে সেই ওয়েবসাইটটি ডাউন বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তারপর সেই ওয়েবসাইটে সাধারণ ভিজিটর বা মানুষ আর প্রবেশ করতে পারে না।
৪। ম্যান ইন দা মিডেল
আপনি যখন কোন ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করবেন তখন হ্যাকার আপনার এবং ওয়াইফাই এর মাঝামাঝি অবস্থান করে আপনার ডিভাইসে আপনি কি কি কার্যক্রম করছেন, কোন পাসওয়ার্ড দিয়ে কোন অ্যাকাউন্ট লগইন করছেন সবকিছু সে জেনে নিতে পারবে। পরবর্তীতে আপনার অ্যাকাউন্ট গুলোতে লগইন করে আপনার যাবতীয় ক্ষতি করতে পারে।
৫। পাসওয়ার্ড অ্যাটাক (Password Attack)
হ্যাকাররা অনেক সময় সফটওয়্যার বানিয়ে হাজার হাজার সাধারণ পাসওয়ার্ড যেমন 12345, abcdef, password123 ইত্যাদি কমন ও দুর্বল পাসওয়ার্ড কে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। এটাকেই মূলত পাসওয়ার্ড আক্রমণ বলা হয়।
সাইবার সিকিউরিটি টুলস ইউজ করতে জানা (Knowing how to use Cyber Security tools)
সাইবার সিকিউরিটি টুলস (Cyber Security Tools) ব্যবহার করতে জানা একজন হ্যাকারের বা সাইবার এক্সপার্টের সবচেয়ে বড় দক্ষতা। সাইবার হামলাকারী হ্যাকাররা যেভাবে সাইবার এটাক করে ঠিক তেমনি সাইবার এক্সপার্টরা প্রয়োজনীয় টুলস দিয়ে তা রক্ষা করে থাকে। কিন্তু সঠিক টুলস ছাড়া সাইবার থ্রেট সনাক্ত করা বা প্রতিরোধ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। নিরাপত্তার জন্য কিছু জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ সাইবার সিকিউরিটি টুল রয়েছে যা ব্যবহার করা শিখতে হবে। নিচে তা উল্লেখ করা হলো:
Nmap:
এটি সাইবার সিকিউরিটির একটি জনপ্রিয় টুল। এর মাধ্যমে একটি কমান্ড লিখেই জানা যায় একটি নেটওয়ার্কের সাথে কয়টি কম্পিউটারের সংযোগ রয়েছে এবং সেগুলোর অপারেটিং সিস্টেম কি।
Wireshark:
এটি একটি নেটওয়ার্ক এনালাইজার। আপনার ডিভাইসে ওয়াইফাই বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কি কি তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে তা এই টুল দিয়ে লাইভ স্ক্রিনে ধরে ধরে দেখা যায়।
Nessus:
এটি ডিভাইসের পুরো সিস্টেমকে স্ক্যান করে জানিয়ে দেয় যে এর কোথায় কোথায় সিকিউরিটি দুর্বলতা রয়েছে। সাধারণত বড় বড় কোম্পানিগুলো এটি ব্যবহার করে।
Autopsy:
এটি একটি ফ্রি সাইবার সিকিউরিটি টুল। এর মাধ্যমে ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইল এবং হ্যাক হয়ে যাওয়া কম্পিউটারের ভেতরের সব ইতিহাস খুঁজে বের করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
প্রবলেম সলভিং দক্ষতা (Problem-solving skills)
সাইবার সিকিউরিটির কাজ শিখতে হলে বা করতে হলে প্রবলেম সলভিং স্কিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাইবার হামলা যে কোন সময় হতে পারে আর তখন দ্রুত অ্যাকশনে যেতে হবে। কেননা আপনার ডিভাইস যদি স্লো বা কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন একজন সাধারণ মানুষ মনে করবে- ডিভাইসটি 'রিস্টার্ট' দিলেই হতো সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু একজন প্রবলেম সলভিং এক্সপার্ট বলবেন যে, আপনার মেমোরি কি ফুল হয়ে গেছে? কোন লুপ চলছে? এটা কি কোন ডি-ডস অ্যাটাক? তারপর তিনি প্রত্যেকটা পার্ট আলাদা আলাদা চেক করে সমাধান বের করবেন।
এভাবে সাইবার সিকিউরিটি শেখার জন্য সকল স্কেল ধাপে ধাপে শিখতে হবে এবং আয়ত্ত করতে হবে। প্র্যাকটিস আর বিভিন্ন রিসোর্স ব্যবহার করলে সাইবার সিকিউরিটি স্কিল শেখা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা
আজকাল ইন্টারনেটের যুগে মানুষ দিন দিন গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন অনেকেই এবং ভবিষ্যতে আক্রমণ হবেন - এ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই অনেকেই সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে চিন্তিত। কাজেই সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট এর মত এই পেশাগুলোতে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে কাজের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এই কাজে ভালো দক্ষতা এবং সার্টিফিকেশন থাকলে প্রতিষ্ঠিত কর্পোরেট অফিস, গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশন, এমনকি আন্তর্জাতিক সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানিগুলোতে "সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট" হিসেবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
সাইবার সিকিউরিটি ক্যারিয়ার কেন বেছে নিবেন?
সাইবার সিকিউরিটি ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার জন্য বেশ কিছু যুক্তি রয়েছে। যেমন-
ব্যাপক চাহিদা:
প্রতিদিন সাইবার হামলার হুমকি বেড়েই চলেছে। ফলের সাইবার সিকিউরিটি প্রফেশনালদের খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। তাই একজন ভালো অভিজ্ঞ দক্ষ সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।
উচ্চ বেতন:
সাইবার সিকিউরিটি তে ক্যারিয়ার গড়লে উচ্চ বেতন পাওয়া সম্ভব। এই ফিল্ডে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টদের স্যালারি প্যাকেজ অনেক বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের সেলারি প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
দিন দিন অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে এটি লাখ টাকার উপরে যেতে পারে। তাছাড়া বিদেশে বিশেষ করে আমেরিকায় বাৎসরিক বেতন প্রায় ১ লাখ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাই নির্দ্বিধায় সাইবার সিকিউরিটি ক্যারিয়ার বেছে নেওয়া যেতেই পারে।
চ্যালেঞ্জিং কাজ:
বর্তমানে নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটে দিন দিন নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যার ফলে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করার সুযোগ পাওয়া যায়। এর জন্য যাদের মধ্যে ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে তারা বেশ চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজটি করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিং অপশন
তাছাড়া কোন কোন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট যদি মনে করেন নিজেকে চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে উন্মুক্ত পেশায় যোগ দিতে পারেন। এর ফলে বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। সব মিলিয়ে বলা যেতেই পারে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া যেতেই পারে।
সাইবার সিকিউরিটি কোর্স ইন বাংলাদেশ (Cyber Security Course in Bangladesh)
বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি শেখার জন্য বেশ কিছু স্বনামধন্য আইটি ইনস্টিটিউট এবং সরকারি উদ্যোগ রয়েছে যেখান থেকে বিভিন্ন কোর্সের সুযোগ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু ফ্রি কোর্স এবং কিছু পেইড কোর্স রয়েছে। এখান থেকে আগ্রহীগণ বিগিনার থেকে এডভান্স লেভেল পর্যন্ত কোর্স করতে পারবেন।
বর্তমানে ব্যাপক হারে সাইবার হামলা বেড়ে যাওয়ায় এর নিরাপত্তার জন্য সাইবার সিকিউরিটি শেখা বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আপনি আপনার স্কিল লেভেল এবং আগ্রহ অনুযায়ী অনলাইন এবং অফলাইন দুই প্লাটফর্মেই আপনি এই কোর্স করতে পারবেন।
অনলাইন প্লাটফর্ম কোর্স
- বাংলাদেশে অনলাইনে সাইবার সিকিউরিটি কোর্স করানোর জন্য Creative IT Institute, Arena Web Security, Ostad এবং ই-শিখন এর মত ই-লার্নিং প্লাটফর্ম গুলো সাইবার সিকিউরিটি শেখার জন্য বিভিন্ন যুগপোযোগী কোর্স অফার করে থাকে।
- আন্তর্জাতিক অনলাইন প্লাটফর্ম যেমন Udemy, Coursera এবং edX এ যে কোন আগ্রহী প্রার্থী সার্টিফিকেট সহ এই কোর্স করতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রাম
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালস পেশাদারদের জন্য Masters in Cyber Security (Professionals) কোর্সটি করিয়ে থাকে, যা প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষার জন্য দারুন উপযোগী।
- এ দেশের বুয়েট, ঢাকা ভার্সিটি এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি এবং সাইবার সিকিউরিটির উপর বিশেষ কোর্স চালু রেখেছে।
ফ্রী শেখার অপশন
- ইউটিউব (YouTube) এ অনেক সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট ফ্রী ভিডিও টিউটোরিয়াল সিরিজ দিয়ে সাইবার সিকিউরিটির বেসিক টু অ্যাডভান্স কোর্স শিখিয়ে থাকেন।
- Open Sourse Platforms যেমন - Cybrary আগ্রহীদের বিনামূল্যে সাইবার সিকিউরিটি কোর্স শেখান।
আপনি যদি সত্যি সাইবার সিকিউরিটি শিখতে চান, তবে প্রথমে আপনাকে আপনার প্রয়োজনীয়তা গুলো ঠিক করতে হবে এবং আপনাকে সেই অনুযায়ী একটি ভালো নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করতে হবে। সঠিক দিক নির্দেশনা ও গাইড লাইন পেলে সাইবার সিকিউরিটিতে সফল ক্যারিয়ার গড়া আপনার সহজ হবে।
FAQ (প্রশ্নোত্তর) - সাইবার সিকিউরিটি (Cyber Security) কি? এর গুরুত্ব এবং শেখার সহজ উপায়
Q1. সাইবার সিকিউরিটি বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ সাইবার সিকিউরিটি (Cyber Security) হলো কম্পিউটার, মোবাইল, ডিভাইস, তথ্য/ডাটা ইত্যাদিকে সাইবার হামলা থেকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া।
Q2.




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url