ভিসা কার্ড কি? ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা এবং কিভাবে করতে হয় (Visa Card Bangladesh)

প্রিয় পাঠক, আপনি কি ভিসা কার্ড কি, ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা, ভিসা কার্ড কিভাবে করতে হয় ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে বিশেষ আগ্রহী? কেননা অনেকেই ভিসা কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তাদের কথা বিবেচনা করেই আজকে আমরা আমাদের 'Faruk Shahina123' ব্লগে এই তথ্যবহুল গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি নিয়ে হাজির হয়েছি।
ভিসা-কার্ড
ভিসা-কার্ড
পোস্ট সূচিপত্র:ভিসা কার্ড (Visa Card) নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন শেষ নেই। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষের কেনাকাটা থেকে শুরু করে লেনদেন সবকিছু আরো সহজ ও নিরাপদ করে দিয়েছে এই ভিসা কার্ড, যা একজন সাধারণ মানুষ শুনলে অবাক হবেই। তাহলে চলুন বন্ধুরা, ভিসা কার্ড কি? ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা এবং কিভাবে করতে হয় (Visa Card Bangladesh) ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ভিসা কার্ড কি (What is Visa Card)?

ভিসা কার্ড কি (What is Visa Card) হলো গ্রাহক সেবা দানকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া আয়তক্ষেত্রাকার এক ধরনের প্লাস্টিকের কার্ড, যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক। এই কার্ড দিয়ে গ্রাহকগণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেড কার্ড সেবা পেয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে খুব সহজেই সারা বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি দোকানে ইচ্ছেমতো কেনাকাটা, এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন এবং সহজে আর্থিক অনলাইন লেনদেন করা যায়।

বাংলাদেশে ভিসা কার্ড কত প্রকার ও কি কি (Visa Card Bangladesh)

বাংলাদেশে ভিসা কার্ড সাধারণত ৩ (তিন) প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন -
১। ভিসা ডেবিট কার্ড (Visa Debit Card): আপনার ব্যাংক একাউন্টে থাকা নিজস্ব জমানোর টাকা দিয়ে সরাসরি আপনি ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করতে পারবেন।
২। ভিসা ক্রেডিট কার্ড (Visa Credit Card): আপনি ব্যাংক থেকে ধার বা লোন করা টাকায় কেনাকাটার সুবিধা পাবেন, যা করে ফি সহ সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
৩। ভিসা প্রিপেইড কার্ড (Visa Prepaid Card): আগে থেকে টাকা বা ডলার আপনার ভিসা প্রিপেইড কার্ডে আপলোড বা জমা করে পরে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ভিসা প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে সেই টাকা বা ডলার ব্যবহার করতে পারবেন।

ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা (Eligibility for a Visa Card)

ভিসা কার্ড (ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড) পাওয়ার যোগ্যতা নির্ভর করে গ্রাহকের সক্ষমতার ওপর। বাংলাদেশের গ্রাহকগণ সাধারণত ভিসা ডেবিট কার্ড ও ভিসা ক্রেডিট কার্ড - এই দুই ধরনের ভিসা কার্ড ব্যবহার করে থাকেন। তাই আজকে আমরা ভিসা ডেবিট কার্ড এবং ভিসা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া জানাবো। প্রথমেই আমরা ভিসা ডেবিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ভিসা ডেবিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা (Eligibility for a Visa Debit Card)

ভিসা ডেবিট কার্ড পাওয়ার জন্য আপনার কোন চাকরি বা মাসিক আয়ের প্রমাণ থাকার প্রয়োজন নেই। কেবলমাত্র কোন অনুমোদিত ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী/সেভিংস (Savings) একাউন্ট বা চলতি/কারেন্ট (Current) একাউন্ট থাকলেই এই কার্ড পাওয়া যায়। নিচে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে ভিসা ডেবিট কার্ডের জন্য কি কি কাগজপত্র ও যোগ্যতা থাকতে হবে তা উল্লেখ করা হলো।
ক্রমিক নং শিরোনাম প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও কাগজপত্র
বয়স আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। (তবে কিছু ব্যাংকে ২১ বছরের কম বয়সের জন্য স্টুডেন্ট একাউন্টের অধীনেও ডেবিট কার্ড দেওয়া হয়)

পরিচয় পত্র
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র অথবা পাসপোর্ট এর কপি।

ছবি আবেদনকারীর সদ্য তোলা ২ থেকে ৩ কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি (ল্যাব প্রিন্ট ও পেছনে স্বাক্ষর যুক্ত)।

টিন সার্টিফিকেট (e-TIN)
ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট কপি এবং সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন জামার রশিদ কপি (Tax Return Certificate)।

নমিনি সংক্রান্ত
নমিনীর ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং তার জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) বা জন্ম সনদের কপি।

ঠিকানার প্রমাণপত্র
আবেদনকারীর সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিলের কপি; যেমন গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল বা পানি বিল এর কপি, যা বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

আয়ের উৎস
আবেদনকারীর আয়ের উৎসের একটি সাধারণ ঘোষণা বা প্রমাণপত্র; যেমন - স্টুডেন্ট আইডি, ব্যবসার ক্যাশ মেমো বা চাকরির আইডি।
ভালো ক্রেডিট স্কোর আপনার নামে অন্য কোন ব্যাংকের ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের বিল খেলাপি থাকা যাবে না (CIB - সিআইবি রিপোর্ট পজেটিভ হতে হবে)।

ইন্টারন্যাশনাল বা ডুয়েল কারেন্সি আপনার পাসপোর্টে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট এবং ট্রাভেল কোটা থাকতে হবে।
 
উপরে উল্লেখিত কাগজপত্র ও যোগ্যতা সমূহ থাকলে আপনি ভিসা ডেবিট কার্ড খুব সহজেই করে নিতে পারবেন। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, কিছু কিছু ব্যাংক তাদের নীতি বা রুলস অনুযায়ী কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস কম-বেশি নিতে পারেন। সেটা আপনাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকেই বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। আশা করি, ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা কি কি তা ভালো হবে জানতেও বুঝতে পেরেছেন। এবার চলুন ভিসা ডেবিট কার্ড কিভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
Visa-Card-Bangladesh
Visa-Card-Bangladesh

ভিসা ডেবিট কার্ড কিভাবে করতে হয় (How to get a Visa Debit Card)?

বাংলাদেশে একটি ভিসা ডেবিট কার্ড পেতে হলে আপনার যেকোনো তফসিলে ব্যাংকে একটি সেভিংস একাউন্ট বা কারেন্ট একাউন্ট থাকতে হবে। ব্যাংকে একাউন্ট খোলার সময় বা পরে উক্ত ব্যাংকের নির্দিষ্ট ভিসা ডেবিট কার্ডের ফরম পূরণ করে জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যাচাই বাছাই করার পর আপনাকে একটি ভিসা ডেবিট কার্ড প্রদান করবেন। তাহলে চলুন একটি ভিসা ডেবিট কার্ড এর জন্য কিভাবে আবেদন করতে হয় তা জেনে নেওয়া যাক।

ভিসা ডেবিট কার্ডের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া (Application Process for a Visa Debit Card)

  • প্রথমেই আপনি আপনার পছন্দমত তফসিলি ব্যাংকের যেকোনো একটি শাখায় যান।
  • তারপর তো ব্যাংকে একটি সেভিংস একাউন্ট বা কারেন্ট একাউন্ট খোলার ফর্ম পূরণ করুন।
  • এরপর ভিসা ডেবিট কার্ডের আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিন।
  • ব্যাংকের নির্দিষ্ট ফি/টাকা (যদি থাকে) জমা দিয়ে আপনার একাউন্টটি সচল করে নিন।
  • তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।
  • আপনার কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ব্যাংক ভেদে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে ভিসা ডেবিট কার্ড প্রস্তুত হয়ে যাবে। তারপর তারা আপনাকে এসএমএস বা মোবাইল কলের মাধ্যমে জানিয়ে দিবে।
  • সর্বশেষে আপনি ব্যাংকে গিয়ে নির্দিষ্ট বইয়ে সিগনেচার বা স্বাক্ষর করে আপনি আপনার কাঙ্খিত ভিসা ডেবিট কার্ডটি হাতে পেয়ে যাবেন। অথবা অনলাইনে আবেদন করলে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।

ভিসা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা (Eligibility for a Visa Credit Card)

ভিসা ক্রেডিট কার্ড (Visa Credit Card) এর জন্য আপনি দুইভাবে আবেদন করতে পারেন।
  • ১। আয়ের উৎস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে (Unsecured) এবং
  • ২। ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) রেখে তার বিপরীতে (Secured)।
সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের (Bangladesh Bank) ক্রেডিট কার্ড নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের যেকোন তফসিলে ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড আবেদনের মূল যোগ্যতা ও শর্তাবলী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস এবং কার্ড পাওয়ার পদ্ধতি নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
পদ্ধতি - ১: আয়ের উৎস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে (Unsecured)
ক) ভিসা ক্রেডি ট কার্ড আবেদনের মূল যোগ্যতা ও শর্তাবলী
একজন ভিসা ক্রেডিট কার্ড আবেদনকারীর বয়স, ন্যূনতম মাসিক আয় এবং ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকতে হবে। তা না হলে তিনি ভিসা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
আবেদনকারীর বয়স
ভিসা ক্রেডিট কার্ড আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৬০ বছরের মধ্যে কথা হবে।
আবেদনকারীর ন্যূনতম মাসিক আয়
আবেদনকারী চাকরিজীবী বা পেশাজীবী হলে ব্যাংক ভেদে ন্যূনতম মাসিক আয় ২০ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে থাকতে হবে।
ভালো ক্রেডিট স্কোর
আবেদনকারীর নামে কোন ব্যাংকের ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের বিল খেলাপি (CIB) থাকা যাবে না।
খ) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস
একজন ভিসা ক্রেডিট কার্ড গ্রহণকারীর পরিচয় পত্র হিসেবে এনআইডি (NID) কার্ড , টিন (TIN) সার্টিফিকেট, ছবি এবং ঠিকানা প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা পানি বিলের কপি জমা দিতে হবে।
ক্রমিক নং শিরোনাম কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস
পরিচয় পত্র
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের (NID) কপি জমা দিতে হবে।

টিন সার্টিফিকেট
আবেদনকারীর ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট এবং সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিল রশিদ দাখিল করতে হবে।

ছবি
আবেদনকারীর ২/৩ কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (ল্যাব প্রিন্ট ও পেছনে স্বাক্ষর যুক্ত থাকতে হবে)।

ঠিকানা
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিলের কপি যেমন- গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল বা পানির বিলের কপি জমা দিতে হবে।

অন্যান্য
সিআইবি (CIB) ফর্ম এবং লেটার অফ আন্ডারটেকিং লাগবে, যা ব্যাংক থেকে সরবরাহ/দেওয়া করা হবে।
গ) পেশা ভিত্তিক আয়ের প্রমাণপত্র
Ⅰ) আবেদনকারী চাকরিজীবী হলে
  • বিগত ৩-৬ মাসের মূল বেতন সার্টিফিকেট (Salary Certificate) বা পে-স্লিপ।
  • বিগত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (Bank Statement), যেখানে প্রতি মাসে বেতন জমা হয়।
  • চাকুরীরত অফিসের আইডি (ID) কার্ডের কপি এবং ভিজিটিং কার্ড।
ⅠⅠ) আবেদনকারী ব্যবসায়ী হলে
  • ন্যূনতম ১-২ বছরের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স কপি।
  • বিগত ১২ মাসের ব্যবসায়িক ব্যাংক স্টেটমেন্ট কপি।
  • কোম্পানির মেমোরেন্ডাম বা অংশীদারি ব্যবসার দলিল (যদি প্রয়োজন হয়) কপি।
পদ্ধতি - ২: ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) রেখে তার বিপরীতে (Secured)
আপনার যদি নির্দিষ্ট কোন আয়ের উৎস বা চাকরি না থাকে তবে আপনি যে কোন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) বা সঞ্চয় স্কিম খুলে তার বিপরীতে খুব সহজেই ভিসা ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেন। কেননা অনেক সময় দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রী, গৃহিণী বা ফ্রিল্যান্সারদের নির্দিষ্ট আয়ের উৎস থাকে না। তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এই পদ্ধতিতে এফডিআর (FDR) এর জমানো টাকার ৯০% (শতাংশ) পর্যন্ত ক্রেডিট লিমিট পাওয়া যায় এবং কোন আয়ের প্রমাণ বা স্যালারি সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয় না।
প্রিয় পাঠক, উপরে ভিসা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার দুটি পদ্ধতি: ১। আয়ের উৎস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে (Unsecured) এবং ২। ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) রেখে তার বিপরীতে (Secured) বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি আপনি যেই পদ্ধতির মধ্যে পড়েন সেই পদ্ধতিতে আপনি খুব সহজেই ভিসা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। এবার চলুন ভিসা ক্রেডিট কার্ড কিভাবে করতে হয় সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ভিসা ক্রেডিট কার্ড কিভাবে করতে হয় (How to get a Visa Credit Card)?

একটি ভিসা ক্রেডিট কার্ড (Visa Credit Card) করতে হলে আপনাকে আপনার পছন্দ মত ব্যাংক যেমন ইসলামী ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ইত্যাদির মত যে কোন সরকার অনুমোদিত তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে অফলাইন বা অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সাধারণত চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী বা নির্দিষ্ট আয় আছে এমন ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে এই কার্ডের জন্য বিবেচিত হবেন।
ভিসা ক্রেডিট কার্ড আবেদনের (Visa Credit Card Application) ধাপসমূহ
  1. আপনার পছন্দের ব্যাংকের শাখায় সরাসরি অফলাইনে গিয়ে আবেদনের জন্য দেখা করুন অথবা ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করুন।
  2. ভিসা ক্রেডিট কার্ডের আবেদন ফরম সংগ্রহ করে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করুন।
  3. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডকুমেন্টস ও ছবি ফর্মের সাথে সংযুক্ত করে জমা দিন।
  4. ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার দেওয়া তথ্য এবং ক্রেডিট হিস্ট্রি যাচাই বাছাই করে কার্ড অনুমোদন করবেন।
  5. আপনার কাগজপত্র সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনি মোটামুটি ৭ কার্য দিবসের মধ্যে আপনি আপনার কাঙ্খিত ভিসা ক্রেডিট কার্ডটি প্রস্তুত হয়ে যাবে।
  6. উপরোক্ত নিয়মে ভিসা ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করলে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ভিসা ক্রেডিট কার্ডটি খুব সহজেই পিন নম্বর সহ হাতে পাবেন এবং আপনার ইচ্ছামত কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।

FAQ (প্রশ্নোত্তর) - ভিসা কার্ড কি? ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা এবং কিভাবে করতে হয় (Visa Card Bangladesh)

Q1. অনলাইনে কি ভিসা কার্ড করা যায়?
উত্তর: সরকার অনুমোদিত তফসিলি ব্যাংকের কোন শাখায় না গিয়েই আপনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে একটি ভার্চুয়াল ভিসা কার্ড পেয়ে যাবেন।
Q2. ভিসা কার্ড করতে কত টাকা লাগে?
বাংলাদেশে ব্যাংক ভেদে ভিসা কার্ড তৈরিতে সাধারণত ৪০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।
Q3. ব্যাংক ছাড়া কি ভিসা কার্ড করা যায়?
ব্যাংক ছাড়া ভিসা প্রিপেড কার্ড করা যায়। ব্যবহারে সহজ এবং রিচার্জ যোগ্য। ভিসা প্রিপেইড কার্ড আপনার সাথে সর্বত্র সাথে থাকে এবং কোন চেক বা ব্যাংক একাউন্টের প্রয়োজন নেই।
Q4. ভিসা কার্ড দিয়ে কি কি করা যায়?
উত্তর: ভিসা কার্ড দিয়ে দেশ-বিদেশে ক্যাশ টাকা উত্তোলন, অনলাইন শপিং, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, মোবাইলে ওয়ালেটে অ্যাড মানি এবং ইউটিলিটি বিল যেমন পানি বিল, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, রেস্টুরেন্ট বিল ইত্যাদি দেওয়া যায়। ভিসা কার্ড ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রিপেইড হতে পারে।
Q5. ভিসা কার্ডের ধরন কিভাবে বুঝবো?
উত্তর: সংশ্লিষ্ট কার্ড নেটওয়ার্কের লোগোটি সাধারণত কার্ডের উপরেই সুন্দর করে খোদাই করে লেখা থাকে। সেটি দেখে আপনি ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং ডিসকভার এর মত প্রধান কার্ড নেটওয়ার্কগুলো শনাক্ত করতে পারবেন।
ভিসা কার্ডের নিরাপত্তা ও সতর্কতা
  1. আপনার ভিসা কার্ডের গোপন পিন (PIN) নাম্বার, সিভিভি (CVV) বা ওটিপি (OTP) কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
  2. আপনার কার্ড হারিয়ে গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ফোন করে জানিয়ে কার্ডটি ব্লক বা স্থগিত করুন।

সর্বশেষ কথা - ভিসা কার্ড কি? ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা এবং কিভাবে করতে হয় (Visa Card Bangladesh)

প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ আমরা ভিসা কার্ড কি? ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা এবং কিভাবে করতে হয় (Visa Card Bangladesh) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং বুঝেছেন। মনে রাখবেন, ভিসা কার্ড মানে ব্যাংক থেকে টাকা ধার নেওয়া এবং প্রয়োজন মেটানো। আপনার প্রয়োজন মেটানো শেষ হয়ে গেলে অবশ্যই ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী টাকা ফেরত দিন। লেখাটি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো যেন অন্যেরা উপকৃত হতে পারেন। ভিসা কার্ড কি এবং এই সম্পর্কে আপনাদের আরো কিছু জানার থাকলে আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। ভিসা কার্ড প্রতি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন এবং নিরাপদ থাকুন। আজকের ভিসা কার্ড কি? ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা এবং কিভাবে করতে হয় (Visa Card Bangladesh) লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
লেখক পরিচিতি:
ভিসা-কার্ড
মোহাঃ গোলাম কবির
বি.এস-সি (অনার্স), এম.এস-সি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
(বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নিয়মিত ব্লগ লেখক)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url