ক্রেডিট কার্ড কি এবং কিভাবে বানাবো? Credit Card Bangladesh 2026
প্রিয় পাঠক, আপনি কি ক্রেডিট কার্ড কি, ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা, কিভাবে বানাবেন, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম-কানুন এবং এই কার্ড ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? আজকাল মানুষের ব্যাংকিং সেবা আরো সহজ এবং সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ড চালু রেখেছে।
![]() |
| ক্রেডিট-কার্ড |
পোস্ট সূচিপত্র:বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ভিসা কার্ড ও মাস্টার কার্ড ব্র্যান্ডের বিভিন্ন লোকাল এবং ডুয়েল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে থাকে। এসব ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ৫০ দিন পর্যন্ত গ্রাহকগণ সুদ-মুক্ত পণ্য ক্রয়ের সুবিধা, বছরে ১৮% (পার্সেন্ট) পর্যন্ত কম সুদের হার এবং ব্যাংক নির্ধারিত নির্দিষ্ট কিছু শর্তে বিমানবন্দর লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায়। আজকে আমাদের 'Faruk Shahina' ব্লগে জানাবো ক্রেডিট কার্ড কি, এটি পাওয়ার যোগ্যতা, কিভাবে বানাবেন, এই কার্ড ব্যবহারের নিয়ম-কানুন ও এই কার্ড ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে।
ক্রেডিট কার্ড কি (What is Credit Card)?
ক্রেডিট কার্ড (Credit Card) হলো গ্রাহক সেবাদানকারী নির্দিষ্ট কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া অনুমোদিত একটি বিশেষ প্লাস্টিক জাতীয় উন্নত আয়তক্ষেত্রাকার পাতলা কার্ড। বিশেষ এই কার্ড দিয়ে আপনি আপনার ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা না থাকলেও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নির্দিষ্ট দিনের জন্য লেনদেন বা কেনাকাটা করতে পারবেন।
আরো পড়ুন: আমি সহজ কিস্তিতে লোন নিতে চাই
অর্থাৎ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ঋণ বা ধার বা লোন দেয়, যা আপনার প্রয়োজন মেটানোর পরে ইন্টারেস্ট সহ বা ইন্টারেস্ট বাদে ফেরত দিতে হয়। অবশ্য আপনি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের পুরো বিলের টাকা শোধ করেন তাহলে সাধারণত কোন ইন্টারেস্ট বা সুদ লাগে না।
ক্রেডিট কার্ড কত প্রকার ও কি কি (What are the different types of Credit Cards)?
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড (Credit Card) সাধারণত নেটওয়ার্ক ভেদে ৩ (তিন) প্রকার। যেমন -
- ভিসা কার্ড (VISA Card)
- মাস্টার কার্ড (Master Card)
- অ্যামেক্স (American Express)।
ভিসা কার্ড (VISA Card)
ভিসা কার্ড (VISA Card) হলো বিশ্বব্যাপী ইলেক্ট্রনিক আর্থিক বা টাকা লেনদেন পরিচালনার একটি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক সিস্টেম। এই কার্ড নির্দিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত থেকে কেনাকাটা, বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং টাকা তোলার প্রযুক্তিগত যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ভিসা কার্ড আবার ৩ (তিন) ধরনের যেমন -
ভিসা ডেবিট কার্ড (Visa Debit Card): আপনি আপনার নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা জমা টাকার সীমার মধ্যে খরচ করতে পারবেন।
ভিসা ক্রেডিট কার্ড (Visa Credit Card): আপনি আপনার নির্দিষ্ট ব্যাংক থেকে টাকা ধার, লোন বা ঋণ বা নির্দিষ্ট সীমার অধীনে খরচ করে পরে পরিশোধ করতে পারবেন।
ভিসা প্রিপেইড কার্ড (Visa Prepaid Card): আপনি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আগে আপনার কার্ডে জমা রেখে পরে ব্যবহার করতে পারবেন।
ভিসা কার্ডের সুবিধা সমূহ (Benefits of Visa Cards)
- আপনি ২০০ টির বেশি দেশে এই পেমেন্ট নেটওয়ার্কের কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
- যেকোনো এটিএম বুথ থেকে সহজে নগদ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
- অনলাইনে যে কোন বিশ্বস্ত কেনাকাটা এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট করতে পারবেন।
ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা কি কি (What are the eligibility criteria for getting a Credit Card)?
ক্রেডিট কার্ড (Credit Card) এর মাধ্যমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলো গ্রাহকে পণ্য বা পরিষেবা ক্রয়ের জন্য টাকা ধার বা ঋণ বা লোন দিয়ে থাকে। তাই এই কার্ড দেওয়ার আগে ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকৃত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে যাচাই করে নেয় যে, গ্রাহকের সেই ধারের বা লোনের টাকা পরবর্তীতে পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে কি-না। নিচে ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা বা কারা কারা ক্রেডিট কার্ড পাবেন তা নিচে উল্লেখ করা হলো।
| ক্রমিক নং | শিরোনাম |
ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা |
|---|---|---|
| ১ | নির্দিষ্ট আয় বা জমা টাকা |
নির্দিষ্ট আয় থাকতে হবে বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমানো টাকা থাকতে হবে। |
| ২ |
চাকরীজীবী/ব্যবসায়ী |
চাকরিজীবীদের মাসিক বেতন কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা হতে হবে। আর ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যাংকে বছরে ১০ লাখ টাকা লেনদেন হতে হবে। |
| ৩ |
শিক্ষার্থী |
ক্রেডিট কার্ডের জন্য যোগ্য পরিবারের উপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীগণ ক্রেডিট কার্ড পেতে পারেন। |
সম্ভাব্য ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের মাসিক আয় যত বেশি হয়, সেই আয়ের ধরন ও ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ক্রেডিট লিমিটের পরিমাণও বেশি হয়। যেমন প্রতিমাসে কেউ ৫০ হাজার টাকা আয় করলে তিনি ১ লাখ টাকার (কম-বেশি) পরিমাণ ক্রেডিট লিমিট পাবেন। সাধারণত ক্রেডিট কার্ড আবেদনকারীদের যোগ্যতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গুলো চাকরিরজীবীদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস চাকরির অভিজ্ঞতা এবং ব্যবসায়ীদের কমপক্ষে ১ বছরের ব্যবসায়িক লেনদেন যাচাই-বাছাই করে থাকে।
![]() |
| Credit-Card-Bangladesh |
আবার কিছু কিছু ব্যাংক যেমন - ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ইত্যাদি কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা ফিক্সড ডিপোজিট এর বিপরীতে গ্রাহককে ক্রেডিট কার্ড সরবরাহ করে থাকে।
ক্রেডিট কার্ড কিভাবে বানাবো (How do I get a Credit Card)?
বর্তমানে বাংলাদেশের (Credit Card Bangladesh) প্রতিটি ব্যাংক এখন অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডের (Online Credit Card) জন্য আবেদন জমা নিয়ে থাকে। আপনি অনলাইনে আবেদন করলে ক্রেডিট কার্ড সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিক্রয় কর্মীগণ আপনার ঠিকানায় এসে ক্রেডিট কার্ডের ফরম পূরণ করে নিয়ে যাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনার কাছে কুরিয়ারে আপনার ক্রেডিট কার্ড ও পিন নম্বর চলে আসবে।
তাছাড়া আপনি আপনার পছন্দমত ব্যাংকে যোগাযোগ করেও ক্রেডিট কার্ড বানাতে পারবেন। বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড নিতে ওই ব্যাংকে আলাদা করে হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক নয়। তাহলে চলুন একটি ক্রেডিট কার্ড কিভাবে বানাবেন এবং কি কি কাগজপত্র লাগবে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
| ক্রমিক নং | শিরোনাম | প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও কাগজপত্র |
|---|---|---|
| ১ | এনআইডি (NID) কার্ড |
ক্রেডিট কার্ড প্রার্থীর জাতীয় পরিচয় পত্র |
| ২ |
ছবি |
প্রার্থীর সাম্প্রতিক তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি |
| ৩ |
ঠিকানা |
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল বা গ্যাস বিল এর কপি। |
| ৪ |
টিআইএন সার্টিফিকেট |
ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার। |
| ৫ |
চাকরিজীবী |
চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগ পত্র বা স্যালারি সার্টিফিকেট এবং ৬ (ছয়) মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট। |
| ৬ |
ব্যবসায়ী |
ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স, মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন, ১০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন সহ ১ (এক) বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট। |
| ৭ |
অন্যান্য পেশাজীবী |
অন্যান্য পেশাজীবী যেমন ডাক্তার, আইনজীবী ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পেশা নিয়োগের সনদপত্র এবং রেফারেন্স হিসেবে ইউটিলিটি বিলের কপি। |
| ৮ |
নমিনি |
, ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের নমিনির পরিচয় পত্র ও ছবি দিতে হবে। |
| ৯ |
রেফারেন্স |
রেফারেন্স সাধারণত ওই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকের নাম ও অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে। |
তারপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবেন। তারপর আপনার যথাযথ ক্রেডিট স্কোর, লেনদেন সক্ষমতা এবং নিয়মিত আয় ব্যায়ের প্রমাণ পর্যবেক্ষণ করে আপনাকে ক্রেডিট কার্ড দেবে। এরপর সেই ক্রেডিট কার্ডের খরচের সীমা বা লিমিট কত হবে, তা নির্ধারণ হবে ক্রেডিট স্কোরের ওপর থেকে।
প্রিয় পাঠক, আশা করি ক্রেডিট কার্ড কিভাবে বানাবেন সেই সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। এখন চলুন এটা ক্রেডিট কার্ডের টাকা আপনি কিভাবে খরচ করবেন এবং নিয়ম-কানুন কি জেনে নেওয়া যাক।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম-কানুন (Rules and Regulations for Credit Card usage)
ক্রেডিট কার্ড (Credit Card) হলো ব্যাংক বা আধিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া একটি টাকা ধার করার সুবিধা, দিয়ে নির্দিষ্ট সীমার (ক্রেডিট লিমিটের) মধ্যে কেনাকাটা করা যায়। অবশ্য ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলাও সম্ভব, তবে এক্ষেত্রে বাড়তি সুদ প্রযোজ্য হতে পারে। বকেয়া বিলের টাকা পরিশোধের জন্য সাধারণত ৪৫ - ৫০ দিন পর্যন্ত সুদবিহীন সময় বা গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যায়। দায়িত্বশীল ভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সময়মতো সম্পূর্ণ বিলের টাকা পরিশোধ ও গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।
ক্রেডিট কার্ড (Credit Card) ব্যবহারের নিয়ম
| ক্রমিক নং | শিরোনাম | ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম-কানুন |
|---|---|---|
| ১ | সম্পূর্ণ বিলের টাকা পরিশোধ |
প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে পুরো বকেয়া বিল পরিশোধ করুন। পুরো বিলের টাকা পরিশোধ করে দিলে অতিরিক্ত কোন সুদ বা চার্জ বা ইন্টারেস্ট কাটা হয় না। |
| ২ |
সর্বনিম্ন বকেয়া এড়িয়ে চলুন |
শুধুমাত্র সর্বনিম্ন পরিমাণ (Minimum due) টাকা পরিশোধ করলে বাকি টাকার উপর উচ্চহারে সুদ বা ইন্টারেস্ট এবং জরিমানা প্রযোজ্য হয়। |
| ৩ |
ক্রেডিট লিমিট মেনে চলুন |
আপনার ক্রেডিট কার্ডের মোট সীমার ৩০% থেকে ৫০% এর মধ্যে খরচ সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করুন। |
| ৪ |
অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন |
আপনার ক্রেডিট কার্ডের টাকা অতিরিক্ত কোন টাকা নয় বরং এটি একটি বড় আর্থিক দায়িত্ব। তাই অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন। |
| ৫ |
কার্ডের পিন ও ওটিপি গোপন রাখুন |
আপনার ক্রেডিট কার্ডের পিন নম্বর, ওটিপি (OTP) বা সিভিভি (CVV) কোড কখনো কারো সাথে শেয়ার করবেন না। |
| ৬ |
লেনদেন যাচাই করুন |
প্রতি মাসের স্টেটমেন্ট চেক করে আপনার খরচের হিসাব মিলিয়ে নিন। কোনরকম ভুল, অসংগতি বা সন্দেহজনক লেনদেন দেখলে দ্রুত ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান। |
তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন, একবার একটি ক্রেডিট কার্ড নেওয়া হলে সেটি কার্যকর ভাবে ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক। আর ক্রেডিট কার্ডের টাকা মানে আপনার ধার নেওয়া বা লোনের টাকা। তাই আপনার ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নেওয়া লোনের টাকা যথাযথ ভাবে ব্যবহার করুন এবং সময়মতো অবশ্যই পরিশোধ করুন।
ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা (Advantages and Disadvantages of Credit Cards)
ক্রেডিট কার্ড (Credit Card) হলো ব্যাংক থেকে টাকা ধার বা লোন নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেনাকাটা বা লেনদেন করার একটি ডিজিটাল উপায়। এই কার্ডের প্রধান সুবিধার মধ্যে রয়েছে নগদ ক্যাশ টাকা সঙ্গে রাখার ঝুঁকি নেই, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধ করলে কোন অতিরিক্ত ইন্টারেস্ট বা সুদ লাগে না এবং আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট অফার পাওয়া যায়। তবে ক্রেডিট কার্ডের সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধা রয়েছে। যেমন সময়মতো বকেয়া বিলের টাকা পরিশোধ না করলে উচ্চ হাড়ে সুদ ও জরিমানা দিতে হয় এবং অতিরিক্ত খরচ করার প্রবণতা তৈরি হওয়া এর একটি প্রধান অসুবিধা। নিচে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা উল্লেখ করা হলো।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা সমূহ (Advantages of Credit Cards)
| ক্রমিক নং | শিরোনাম | ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা |
|---|---|---|
| ১ | আর্থিক নিরাপত্তা |
নগদ ক্যাশ টাকা চুরির ভয় থাকে না এবং অনলাইন লেনদেনে বাড়তি সুরক্ষা পাওয়া যায়। |
| ২ |
সুদবিহীন সময় |
গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে বকেয়া বিলের টাকা পরিশোধ করলে কোন অতিরিক্ত খরচ বা সুদ বা ইন্টারেস্ট দিতে হয় না। |
| ৩ |
বিভিন্ন রিওয়ার্ড ও অফার |
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক অফার, ডিসকাউন্ট ও লয়েলটি পয়েন্ট পাওয়া যায়। |
| ৪ |
জরুরী সহায়তা |
আপনার পকেটে নগদ ক্যাশ টাকা না থাকলেও যেকোনো বিপদ-আপদে বা জরুরী চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক খরচ মেটানো যায়। |
| ৫ |
ক্রেডিট স্কোর |
ক্রেডিট কার্ডের নিয়মিত বিল এর বকেয়া টাকা পরিশোধ করলে ভালো ক্রেডিট স্কোর তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে বড় লোন সুবিধা পেতে সাহায্য করে। |
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অসুবিধা সমূহ (Disadvantages of Credit Cards)
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধা রয়েছে যেগুলো আপনাকে ভবিষ্যতে আর্থিক বিপদে ফেলতে পারে। তাই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে কি কি অসুবিধা হতে পারে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।
| ক্রমিক নং | শিরোনাম | ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অসুবিধা |
|---|---|---|
| ১ | অতিরিক্ত খরচ |
হাতের কাছে বাড়তি টাকা থাকার অনুভূতি হওয়ায় প্রয়োজনে চেয়ে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ করার ইচ্ছে করে থাকেন। |
| ২ |
উচ্চ সুদ ও চার্জ |
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিলের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে অনেক বেশি সুদের হার এবং লেট ফি প্রযোজ্য হয়। |
| ৩ |
লোনের ফাঁদ |
সময়মতো ভারের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে তা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে এবং বড় আর্থিক বিপদে পড়তে পারেন। |
| ৪ |
নগদ টাকা উত্তোলনে বাড়তি খরচ |
আপনি এটিএম বুথ থেকে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নগদ ক্যাশ টাকা তুললে অতিরিক্ত কি এবং সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারেস্ট বা সুদ কাটা হয়। |
| ৫ |
ডিসক্রেডিট স্কোর |
সময়মতো ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিলের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে আপনি ডিসক্রেডিট স্কোর পাবেন যা পরবর্তীতে আর লোন পাবেন না। |
FAQ (প্রশ্নোত্তর) - ক্রেডিট কার্ড কি এবং কিভাবে বানাবো? Credit Card Bangladesh
Q1. ক্রেডিট কার্ড বলতে কি বোঝায়?
উত্তর: ক্রেডিট কার্ড হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া একটি আয়াতে কার প্লাস্টিক কার্ড যার মাধ্যমে আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা না থাকলেও নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পণ্য বা সেবা বা ক্যাশ টাকা ধার নিতে পারবেন। এই স্বল্প মেয়াদী ধারের টাকা আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংককে ফেরত দিতে হবে।
Q2. ক্রেডিট কার্ড করতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: ক্রেডিট কার্ড তৈরি বা পেতে কোন আবেদন ফি বা টাকা লাগেনা। তবে বিভিন্ন ব্যাংক ভেদে ক্রেডিট কার্ড চালুর পর প্রতিবছর ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বার্ষিক ফি কাটা হয়ে থাকে।
Q3. কত টাকা স্যালারি হলে ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায়?
উত্তর: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩০,০০০ টাকা স্যালারি বা বেতন হলেই ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে থাকে।
আরো পড়ুন: জরুরী পার্সোনাল লোন পাওয়ার উপায়
সর্বশেষ কথা - ক্রেডিট কার্ড কি এবং কিভাবে বানাবো? Credit Card Bangladesh
প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ আমরা ক্রেডিট কার্ড কি, এই কার্ড পেতে কি কি যোগ্যতা লাগে, কিভাবে কার্ড বানাবো, কার্ড এর সুবিধা ও অসুবিধা কি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং বুঝেছেন। ক্রেডিট কার্ডের টাকা সাধারণত কেনাকাটার জন্য বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। তবে কেউ নগদ ক্যাশ টাকা এটিএম বুথ থেকে উঠালে অতিরিক্ত ফি এবং সুদ কাটা হয়। তাই আপনার আর্থিক প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড নিন এবং সময়মতো পরিশোধ করুন। লেখাটি পড়ে উপকৃত হয়ে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইল যেন অন্যরাও উপকৃত হতে পারেন। আজকের 'ক্রেডিট কার্ড কি এবং কিভাবে বানাবো' লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
লেখক পরিচিতি:
মোহাঃ গোলাম কবির
বি.এস-সি (অনার্স), এম.এস-সি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
(বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নিয়মিত ব্লগ লেখক)




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url