কম পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া ২০২৬

কম পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া ২০২৬। আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠক, আপনি কি অল্প টাকায় অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া, অনলাইন ব্যবসার খুঁটিনাটি, গ্রামে বসে অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া, অনলাইন বিজনেস প্ল্যান, অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট, আমি কিভাবে অনলাইন বিজনেস করবো ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চাইছেন?
অনলাইন-বিজনেস-প্রোডাক্ট-আইডিয়া
অনলাইন-বিজনেস-প্রোডাক্ট-আইডিয়া

কম পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া ২০২৬

বর্তমানে অনেকেই কম পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনা না পাওয়ার কারণে ইন্টারনেট ভিত্তিক অনলাইনে ব্যবসা করার সুযোগ পান না। তাদের কথা বিবেচনা করেই আজকে আমরা খুব অল্প টাকায় কিভাবে অনলাইন ব্যবসার প্রোডাক্ট বা মালামাল পাওয়া যায় এবং ব্যবসার প্লান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব। আশা করি আজকের লেখাটি মনোযোগ সহকারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন। তাহলে চলুন খুব কম টাকায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিভাবে অনলাইনে বিজনেস করা যায় এবং অনলাইন বিজনেসের প্রডাক্টগুলো কি কি সেই সম্পর্কে কিছু আইডিয়া বা ধারণা নেওয়া যাক।

কম পুঁজিতে বা অল্প টাকায় অনলাইন বিজনেস শুরুর আগে নির্দেশনা

আমাদের অনেকের ধারণা যে ব্যবসা করতে হলে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু ইন্টারনেট সহজলভ্যতা ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এ ধারণা একেবারেই পাল্টে গেছে। আর মানুষের সবচেয়ে কমে গেছে সময়। অর্থাৎ সময় করে কেউ বাজারে গিয়ে আর খুঁটিনাটি করে বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে প্রোডাক্ট বা প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী কেনার একেবারেই সময় থাকে না। এমনকি যারা চাকরি-বাকরি করে না গ্রামে থাকে তাদেরও এখন অনলাইনে কেনাকাটা যেন একটা শখে পরিণত হয়েছে। আর হাতের মুঠোয় থাকা ডিভাইসে দেশি-বিদেশি যেকোনো পণ্য খুব সহজেই দেখে নেওয়া যায়। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই আপনি খুব অল্প টাকায় বা কম পুঁজিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন বিজনেস সহজেই করতে পারেন। তবে কম বুঝিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া শুরু করার পূর্বে আপনাকে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে সেগুলো হল -
  • কম পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস আইডিয়ার প্রধান হলো আপনার পছন্দের বিষয় নির্বাচন করা।
  • অনলাইন বিজনেসের সঠিক পরিকল্পনা এবং ধৈর্য।
  • অনলাইন ব্যবসার শুরুতে মার্কেট যাচাই বাছাই করা।
  • কাস্টমারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা থাকা।
  • আপনার প্রতিযোগীদের সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ করা।
  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সঠিক বুদ্ধিমত্তার সাথে ও ধৈর্যের সাথে বিজনেস ধরে রাখা।

কম পুঁজি বা অল্প পুঁজি বলতে কি বুঝায়?

আসলে ব্যবসা শুরুর মূলধন টাকাকেই ব্যবসার পুঁজি বা মূলধন বলা হয়। এখন কত টাকাকে অল্প পুঁজি বলা হয় তা একটি আপেক্ষিক বিষয়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা সাধারণত অতি অল্প পুঁজি বলতে ৫ (পাঁচ) থেকে ১০ (দশ) হাজার টাকার মধ্যে বুঝে থাকি। আর মাঝারি অল্প পুঁজি বলতে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ধরতে পারি।
অতি অল্প পুঁজির ব্যবসার উদাহরণ: অনলাইন রিসেলিং, ড্রপ শিপিং ইত্যাদি ব্যবসা।
মাঝারি অল্প পুঁজির ব্যবসার উদাহরণ: ছোট গেজেট সপ, ক্যাটারিং সার্ভিস, ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস ইত্যাদি ব্যবসা।
তবে আপনার অনলাইন ব্যবসার পুঁজি বা মূলধন যাই হোক না কেন এবং আপনি যে ধরনেরই ব্যবসা করতে চান না কেন, প্রথমেই সেই ব্যবসা সম্পর্কে আপনার পূর্ণ ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরী। তাহলে চলুন আপনাদের জন্য বাছাই করা ৭টি অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া সম্পর্কে জেনে নিই।
অনলাইন-বিজনেস-প্রডাক্ট
অনলাইন-বিজনেস-প্রডাক্ট
১. অনলাইনে টি-শার্ট/পোশাক বিক্রি (Facebook Page/Website)
কম টাকার পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়ার প্রথম পছন্দ হতে পারে টি-শার্ট/পোশাক বিক্রি করা। দেখুন, বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্স সেক্টরের বিরাট একটি অংশ দখল করে আছে তৈরি পোশাক। ইন্টারনেট বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া হিসেবে আপনি টি-শার্ট, শাড়ি, থ্রি পিস, পাঞ্জাবি কিংবা ছোটদের পোশাক বেছে নিতে পারেন।
যেভাবে শুরু করবেন:
প্রথমেই আপনি এগুলোর পাইকারি বাজার যেমন ঢাকার ইসলামপুর, ভুলতা গাউছিয়া মার্কেট ও বিভিন্ন বড় বড় পাইকারি মার্কেট থেকে অল্প কিছু স্যাম্পল হিসাবে ফেসবুক পেজে ছবি তুলে বা লাইভ করে প্রচার শুরু করুন। এমনভাবে পোশাকের বর্ণনা করুন যেন আপনার কাস্টমার সহজেই বুঝতে পারে এবং গ্রহণযোগ্যতা পায়। খেয়াল রাখুন, ব্যবসার মূল হল সততা। সেই হিসেবে ভালো মানের দ্রব্য সামগ্রী অবশ্যই দেওয়ার চেষ্টা করবেন। কেননা ব্যবসা একদিনের নয়, সেটা দীর্ঘদিনের একটা পরিকল্পনা।
এই ব্যবসার সুবিধা:
বর্তমানে ডিজিটাল ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বাড়তি খরচ ছাড়াই হাজার হাজার কাস্টমারের কাছে এই তথ্যগুলো তুলে ধরা সম্ভব। গ্রাহক পছন্দ করলে অর্ডার পাবেন এবং বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে যেমন- বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদির মাধ্যমে পেমেন্ট পাবেন। বাড়িতে বসেই এই ব্যবসাটি অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারবেন এবং দীর্ঘমেয়াদী একটা আয়ের উৎস হতে পারে।
২. প্রিন্ট অন ডিমান্ড (POD)
অল্প পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়ার একটি আধুনিক ও স্মার্ট ব্যবসা হতে পারে প্রিন্ট অন ডিমান্ড (POD) ব্যবসা। এখানে কোন ইনভেস্ট বা প্রোডাক্ট মজুদ করার তেমন দরকার পড়ে না। এজন্য আপনি প্রথমে ইউটিউব দেখে এই ব্যবসা ধারণাটা নিবেন। তারপর সেগুলো আপনি আপনার ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে কাস্টমারদের কাছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ডিজাইনগুলো তুলে ধরবেন।
যেভাবে শুরু করবেন
আপনি স্যাম্পল হিসেবে টি শার্ট, ক্যাপ, মগ বা গুটি ইত্যাদির ওপর আকর্ষণীয় ডিজাইন, নকশা ও লেখা ইত্যাদি ডিজাইন করবেন। তারপর সেগুলো অনলাইনে ফেসবুকের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে তুলে ধরবেন। বর্তমানে ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলার জার্সির গায়ে নিজ নাম ও নম্বর বসিয়ে আকর্ষণীয় ভাবে প্রিন্ট করা টি শার্ট কাস্টমারদের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আপনি বিভিন্ন ডিজাইনে লিখে সেগুলো তুলে ধরলে অর্ডার অনুযায়ী নাম প্রিন্ট করে দিতে চাইলে কাস্টমারের অর্ডার পাবেন। তারপর অর্ডার ভিত্তিক আপনি প্রিন্টিং কোম্পানির নিকট সেটি প্রিন্ট করে তাদের মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে পাঠিয়ে দিন। এভাবে বিভিন্ন মগ, ক্যাপ ইত্যাদির ওপর ডিজাইন করতে পারেন। এতে করে আপনি মাঝখান থেকে লাভবান হবেন। এতে টাকা বিনিয়োগ প্রায় শূন্য বললেই চলে।
৩. অনলাইন রিসেলিং বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া
বিনা পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়ার দারুন পছন্দ হতে পারে রিসেলিং ব্যবসা। এতে আপনার পণ্য কেনা বা মজুদ করার কোন প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ আপনি এটা একেবারে বিনা ইনভেস্টে করতে পারেন। এখানে আপনার প্রয়োজন পড়বে একটি স্মার্টফোন, ফেসবুক পেজ এবং সদিচ্ছা।
যেভাবে শুরু করবেন:
বর্তমানে অনেক অ্যাপস বা পাইকারি সেলার রয়েছে যারা আপনাকে তাদের প্রোডাক্টের ছবি এবং গুণগতমান সরবরাহ করবেন। আপনি সেই তথ্যগুলো নিজের ফেসবুক পেজ বা ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করে প্রচার করবেন। কাস্টমার পছন্দ মতো অর্ডার করলে সেই অর্ডার গুলো আপনি পাইকারি সেলারকে পাঠিয়ে দিবেন। তারপর পাইকারি ব্যবসায়ীরা কাস্টমারের কাছে প্রোডাক্টগুলো পৌঁছে দিবে। মধ্যখান থেকে আপনি লাভের একটা অংশ পেয়ে যাবেন। যেমন ধরুন একটি শাড়ির পাইকারি মূল্য ১,২০০ টাকা, আপনি বিক্রি করলেন ১,৫০০ টাকায়। এখানে শাড়িটির প্যাকিং এবং ডেলিভারি খরচ পাইকারি বিক্রেতার। মাঝখান থেকে আপনি ৩০০ টাকা লাভবান হলেন। দারুণ না!
৪. ক্যাটারিং বা হোম মেড খাবার সরবরাহ
একেবারে কম টাকা বিনিয়োগে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া (Online Business Product Idea) হিসেবে ক্যাটারিং বা হোমমেড ফুড ডেলিভারি ব্যবসা করতে পারেন। আপনি যদি কিছুটা শহর এলাকায় বসবাস করেন তাহলে এই হোমমেড খাবার সরবরাহ ব্যবসাটা দারুন হতে পারে। ভোজন রসিক বাঙালিরা রুচি সম্মত খাবার পেলে একেবারে লুফে নেবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। আজকাল ব্যাচেলর বা বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা সরকারি বেসরকারি অফিসে খাবার সরবরাহ করতে পারলে দারুন হতে পারে। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না যে মানুষ কতটা এই ঘরের খাবারের জন্য পাগল। আপনি বা আপনার মিসেস যদি রাঁধুনিতে পাকা হয় তাহলে এখনই একটা ফেসবুক পেজ খুলে অল্প আইটেম দিয়ে ব্যবসাটা শুরু করে দেখুন। প্রথমে খিচুড়ি, ভর্তা ভাত দিয়ে শুরু করতে পারেন। একবার হাতের রান্না খেয়ে স্বাদ পেয়ে গেলে আপনাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না।
যেভাবে শুরু করবেন:
প্রথমে সেটিংসহ ভালোভাবে খাবার সম্পর্কিত নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিন। তারপর সেখানে খাবার ছবি ও ভিডিও আপলোড করে প্রচার করতে থাকুন। এখানে খাবারের গুণগত স্বাদ ও স্বল্প মূল্যে সরবরাহের কথা বলতে ভুলবেন না। অবশ্য আপনি বিভিন্ন ব্যাংক ও অফিসে যোগাযোগ করেও কাস্টমার ঠিক করতে পারবেন। তারপর হাইজিন মেইন্টেন করে খাবারের স্বাদ ও মান ঠিক রেখে সরবরাহ করুন। একবার হাতের রান্নার স্বাদ পেয়ে গেলে তাদের মাধ্যমেই আপনার ব্যবসা আরো প্রসার হবে। আমার এক পরিচিত আত্মীয় এই ব্যবসা করে এখন স্বাবলম্বী।
৫. আচার, গুড় বা হোমমেড কেক বিজনেস প্রোডাক্ট
খুব কম বুঝিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়ার আরো একটি সফল পছন্দ হতে পারে আচার, গুড় বা হোমমেড কেক প্রোডাক্টগুলো। আপনার এলাকায় যদি ঐতিহ্যবাহী কোন ফল-মূল, মিষ্টি, খাবার ইত্যাদি পাওয়া যায় সেটা দিয়েও আপনি অনলাইন বিজনেস করতে পারেন। যেমন ধরুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, নাটোরের কাঁচা গোল্লা, বগুড়ার দই ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী পণ্যদ্রব্য দিয়ে অনলাইন বিজনেস শুরু করতে পারেন। প্রথমে এগুলোর ছবি ও ভিডিও গুণগত মান সহ ফেসবুক পেইজে প্রচার করতে থাকুন। একপর্যায়ে কাস্টমার আপনার পেইজে অর্ডার করলে আপনি সেগুলো সরবরাহ করে বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদির মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেন। ফলে আপনি ব্যবসায়ী হিসেবে লাভবান হবেন এবং স্বাবলম্বী হবেন। আজকাল অনেকেই এই ব্যবসা গুলো করছে। এমনকি আমার মিসেস মাথায় ব্যবহৃত তেল অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করে থাকে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, অনলাইন আকর্ষণীয় প্রচারের মাধ্যমে বিজনেস কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে। এভাবে আপনি অনলাইন ব্যবসা প্রোডাক্ট আইডিয়া নিজে থেকেই বের করতে পারবেন।
৬. ইউটিউব (YouTube) চ্যানেল প্রোডাক্ট আইডিয়া
ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট ধারণা হতে পারে ইউটিউব। বিভিন্ন ধরনের ভিডিও কনটেন্ট এখন মানুষের প্রধান বিনোদন এবং তথ্যের উৎস। ইউটিউব (YouTube) থেকে টাকা ইনকাম করতে তেমন এক্সট্রা পুজির দরকার পড়ে না। হাতে থাকা মোবাইলটি দিয়েই শুরু করা যায়। আপনি ভ্রমণ, রান্না করা, পড়াশোনা, খাবার রিভিউ কিংবা প্রতিদিনের ছোট ছোট শিক্ষণীয় ও বিনোদনমূলক বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন।
যেভাবে আয় হবে:
ইউটিউব এর ভিডিও কনটেন্ট গুলো দর্শকরা দেখলে গুগল এডসেন্স, বিভিন্ন কোম্পানির স্পন্সরশিপ এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্রতি মাসে একটা ভালো টাকা ইনকাম বা আয় করা সম্ভব। তাছাড়া আপনি ফাইবার, Upwork ইত্যাদি আন্তর্জাতিক মার্কেটে আপনার দক্ষতা সেল করেও টাকা আয় করতে পারবেন।
৭. ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস বিজনেস
খুব অল্প বিনিয়োগে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়ার দারুন পছন্দ হতে পারে ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস বিজনেস। অবশ্য আপনি ইউটিউব (YouTube) থেকে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল কোর্স কিংবা মেন্টরের কাছ থেকে দক্ষতা শিখে নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস বিজনেস করতে পারেন। আপনার যদি বিশেষ কোনো বিষয়ে দক্ষতা থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক মার্কেটে এই সার্ভিস সেল করে ভালো টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন।
ডাটা এন্ট্রির কাজ:
ডাটা এন্ট্রির কাজ সহজ হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আপনি এই দক্ষতা সেল করে একটি স্মার্ট ইনকাম করতে পারবেন।
গ্রাফিক্স ডিজাইন:
যেকোনো কোম্পানি বা সোশ্যাল মিডিয়ার লোগো, পোস্ট ডিজাইন ইত্যাদি করে আপনি ভালো টাকা আয় করতে পারবেন। এখানে আপনার ক্রিয়েটিভিটি যত বেশি তত ভালো রুচিসম্মত ডিজাইন তৈরি করতে পারবেন।
ভিডিও এডিটিং:
আপনি যদি ভিডিও এডিটিং দক্ষতা শিখে নিতে পারেন তাহলে বিভিন্ন উপায়ে আয় করতে পারবেন। আজকাল মানুষ বিয়ে অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ভিডিও করে থাকেন। এজন্য দক্ষ ভিডিও এডিটর হলে কাজের অভাব হবে না এবং ভালো মানের একটি আয় করতেও সক্ষম হবেন।
এসিও (SEO):
বর্তমানে ওয়েবসাইট Ranking করানোর কাজ এসিও (SEO) যা সবচেয়ে বেশি ডিমান্ডিং। যারা ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের তথ্য লিখে থাকেন বা প্রোডাক্ট প্রচার করে থাকেন তারা এই কাজের জন্য লোক হায়ার করে থাকেন। তাই আপনি যদি ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট আপওয়ার্ক বা ফাইবারের মত প্লাটফর্মে নিজের পোর্টফলিও তৈরি করতে পারেন তাহলে প্রতি মাসে বড় অংকের টাকা আয় করতে পারবেন।

শহরে অল্প টাকায় অনলাইন বিজনেস আইডিয়া| অনলাইন বিজনেস কিভাবে করব

আপনি যদি শহরের বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য খুব অল্প টাকায় কিছু ব্যবসার ধারণা দেওয়া যেতে পারে। শহরে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে এবং ব্যবসার একটি ভালো জায়গা। যদিও শহরে ব্যবসার খরচ যেমন ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদির খরচ বেশি হয় তারপরও মানুষের প্রচুর চাহিদা থাকে। আপনি যদি কম পুঁজিতে বিজনেস আইডিয়া খুঁজে থাকেন তাহলে নিচের ক্ষুদ্র ব্যবসা গুলো আপনার জন্য লাভজনক হতে পারে। তাহলে চলুন সেরা কিছু স্বল্প পুঁজির ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনলাইন-বিজনেস-কিভাবে-করব
অনলাইন-বিজনেস-কিভাবে-করব
১। মোবাইল এক্সেসরিজ
আজকাল সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন থাকে। এজন্য ফোনের কভার, চার্জার, হেডফোন, ব্যাটারি, গ্লাস প্রটেক্টর ইত্যাদির প্রয়োজন লেগেই থাকে। আপনি যদি জায়গা মত একটা ছোট দোকান দিতে পারেন তাহলে এই প্রোডাক্টগুলো খুব সহজেই বিক্রি করতে পারবেন। আপনি একটা ফেসবুক পেজ খুলে নিজের মোবাইল এক্সেসরিজ প্রোডাক্টগুলো সেল করতে পারবেন। প্রথমে আপনি এগুলোর পাইকারি মার্কেট যেমন ঢাকার গুলিস্তান, ইস্টার্ন প্লাজা বা মোতালেব প্লাজা থেকে খুব অল্প দামে পণ্য কিনে তা রাস্তার পাশে ছোট কাউন্টারে অথবা ভ্রাম্যমান ভাবে সহজে বিক্রি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে পণ্যের কেনা দাম থেকে ৫০% থেকে ৮০% পর্যন্ত লাভ হয়ে থাকে।
২। ফ্লেক্সিলোড/বিকাশ/রকেট/নগদ এজেন্ট
বর্তমানে এই ব্যবসা গুলো খুবই জনপ্রিয় এবং নিত্য প্রয়োজনীয়। এমন কোন লোক নেই যার মোবাইল নেই। আর মোবাইল থাকলেই ফ্লেক্সিলোড/ডাটা ইত্যাদির প্রয়োজন পড়ে। শহরে যদি আপনার ছোট্ট একটি দোকান থাকে অথবা বড় ছাতার মাধ্যমে ফুটপাতের পাশে বসেই ফ্লেক্সিলোড/বিকাশ/রকেট/নগদ এজেন্সিপ নিতে পারবেন। বিভিন্ন লেনদেনের ওপর নির্ধারিত কমিশন এবং বিপুল পরিমাণ গ্রাহকদের আসা-যাওয়ার ফলে আপনার দোকানে অন্যান্য পণ্যের বিক্রিও বেড়ে যাবে। এ ব্যবসায়ী লস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম এবং খুব সামান্য টাকাতেই এজেন্সিপ পাওয়া যায়।
৩। স্টেশনারী/ফটোকপি/প্রিন্টিং ব্যবসা
যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এ ব্যবসা গুলো খুব ভালো চলে। বিশেষ করে সেকেন্ড হ্যান্ড একটি ফটোকপির মেশিন সাথে প্রিন্টার এবং একটি ল্যাপটপ থাকলে এই ব্যবসা সহজেই শুরু করা যায়। সাথে খাতা, কলম ইত্যাদি ষ্টেশনারী প্রোডাক্ট রাখলে বাড়তি আয় হবে। এসবের চাহিদা সারা বছর লেগেই থাকে। তাই আপনি যদি কম পুজিতে বিজনেস করার আইডিয়া খুঁজে থাকেন তাহলে এই ব্যবসাটি আপনার জন্য পারফেক্ট হবে। তাহলে আপনি কাল থেকেই শুরু করে দিন।
৪। স্ট্রিট ফুড/ফুচকা ব্যবসা
কম পুঁজিতে একটি ভালো বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া হতে পারে স্ট্রিট ফুড/ফুচকা ব্যবসা। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাস্তার ধারে ও মোড়ে এই দোকানগুলো সচরাচর দেখতে পাওয়া যায়। এইতো সেদিন বন্ধুদের সাথে কথা বলতে বলতে খুব অল্প টাকায় ফুচকা খেলাম। এসব খাবার খেতে যেমন মুখরোচক তেমনি খরচও খুব কম। আর ব্যবসায়ী এতে লাভবানও হয়ে থাকেন। এসব স্ট্রিট ফুডের কাঁচামালের নাম খুবই কম কিন্তু বিক্রয় মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে থাকে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের গুণগত স্বাদ ঠিক থাকলে খুব দ্রুত কাস্টমার তৈরি হবে এবং ব্যবসার প্রসার ঘটবে। কোন লোকালয় স্কুল, কলেজ বা অফিসের মোড়ে একটি ভ্রাম্যমান ফুচকা/স্ট্রিট ফুডের দোকান দিলে দিনে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। তাহলে আর দেরি না করে জায়গা মত একটি স্ট্রিট ফুড/ফুচকা ব্যবসা চালু করে ফেলুন।
৫। বিভিন্ন ফলের জুস কর্নার
আজকাল মানুষ খুবই স্বাস্থ্য সচেতন। তাই মানুষ কেমিক্যাল যুক্ত প্যাকেটজাত ফলের জুস বা রস খাওয়ার চেয়ে আম, মাল্টা, তরমুজ, বেল ইত্যাদি দিয়ে ফ্রেশ জুস পছন্দ করে থাকেন। এই তো সেদিন ঢাকার মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে গিয়ে টাটকা ফলের জুস বানিয়ে খেলাম। এতে আমার মনটা বা প্রাণটা যেমন জুড়িয়ে গেল তেমনি ব্যবসায়ীর কিছু টাকা লাভ হল। তাহলে আপনি একটি জুসার মেশিন কিনে নিন এবং কিছু গ্লাস কিনে ব্যবসাটি শুরু করে দিন। এই গরমে এই জুসের ব্যবসা খুব ভালো চলবে এবং লাভ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। আমার মতে আপনার জন্য এটিও একটি কম পুঁজিতে বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া হতে পারে।
৬। চা-নাস্তার স্টল
আজকাল মোড়ে মোড়ে চা-নাস্তার ইনস্টল বা দোকান ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। আরে বাঙালি মানেই আড্ডাবাজি। সাথে যদি পরিচিত দুই একটা বন্ধু-বান্ধব জোটে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। শুরু হয়ে গেল আড্ডা আর আড্ডা মানেই চা, বিস্কিট ইত্যাদি। আপনি যদি এই ব্যবসাটি পছন্দ করে থাকেন তাহলে অল্প টাকা ইনভেস্ট করে চুলা, কেটলি, কয়েকটি প্লাস্টিকের টুল নিয়ে রাস্তার ধারে বা কোন মোড়ে বসে পড়ুন। সাথে যদি কলা, বিস্কুট, কেক রাখতে পারেন তাহলে লাভের পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। আর একটি ফেসবুক পেজ খুলে আপনি যদি একবার আপনার চায়ের স্বাদ সম্পর্কে কাস্টমারকে জানাতে পারেন তাহলে দেখবেন হুড় হুড় করে কাস্টমার আপনার দোকানে আসা শুরু করবে। তখন আপনি হয়ে যাবেন ভাইরাল চা বিক্রেতা।
৭। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
আপনি যদি বিনা পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া খুজে থাকেন তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সবচেয়ে পারফেক্ট হবে। কেননা বর্তমান সময়ে ছোট বড় সব ব্যবসায়ীরই একটি ফেসবুক পেজ কিংবা ইনস্টাগ্রাম (Instagram) একাউন্ট থাকে। অনেকে সময়ের অভাবে সেগুলো মেইনটেইন করার সময় পান না। তাই তারা সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট করার জন্য একজন ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে থাকেন। আপনি যদি আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনে ফেসবুক পেজ কিংবা ইনস্টাগ্রাম চালাতে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে এই কাজটি সহজেই করতে পারবেন। এটা এক ধরনের পার্টটাইম জবের মত। শুধু হাতে একটি ইন্টারনেট সংযোগ যুক্ত স্মার্টফোন থাকলেই হবে।
যেভাবে শুরু করবেন ও আয় হবে
বিভিন্ন ফেসবুক পেজ কিংবা ইনস্টাগ্রাম গ্রুপে খোঁজ রাখলে দেখবেন অনেকেই তাদের পেজ চালানোর জন্য একজন দক্ষ লক্ষ খুঁজছেন। তখন আপনি সেখানে যোগাযোগ করে কাজটি অনায়াসে ই সংগ্রহ করতে পারবেন। তারপর কাস্টমারের নির্ধারিত পণ্যের নিয়মিত পোস্ট, কমেন্টে রিপ্লাই এবং মেসেজ বক্স চেক করে রিপ্লাই দেওয়া। আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে পার্টটাইম হিসেবে ২/৩টি পেজ বা অ্যাকাউন্ট চালানো কোন ব্যাপারই না। এতে করে আপনি মাসে ৫ (পাঁচ) হাজার থেকে ১০ (দশ) হাজার টাকা সহজেই আয় করতে সক্ষম হবেন। এতে করে আপনার যেমন প্রতিমাসের হাত খরচটা পেয়ে যাবেন সাথে পড়াশোনার খরচও চলবে।
৮। ইলেকট্রিক্যাল সার্ভিস
আপনি যদি বাড়ির ইলেকট্রিকের ছোটখাটো কাজ পারেন কিংবা সে বিষয়ে দক্ষতা থাকে তাহলে এই কাজটি আপনি বিনা টাকা ইনভেস্ট করে করতে পারবেন। ধরুন, লাইট/ফ্যানের সুইচ লাগানো, ফ্যান লাগানো, লাইট লাগানো ইত্যাদি ছোটখাটো কাজ অনায়াসেই করা যায়। আপনি আপনার আশেপাশে থাকা ইলেকট্রিক্যাল দোকান গুলোতে যোগাযোগ করে আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে আসবেন। অনেক গ্রাহক ফ্যান বা লাইট লাগানোর জন্য লোক খুঁজে থাকেন। সেক্ষেত্রে আপনি কাজটি তার বাড়ি গিয়ে করে দিলেন মধ্যখান থেকে দুই/তিনশ টাকা পেয়ে গেলেন। কি দারুন না! আমি আমার এক আত্মীয়কে এই বুদ্ধিটি শিখায় দিয়েছি। সে এখন দিব্যি প্রতিদিন কয়েকশ টাকা ইনকাম করে।

কোন ব্যবসায় লাভ/প্রফিট বেশি হয়?

অনেকেই ব্যবসা শুরু করার আগে প্রশ্ন করে থাকে কোন ব্যবসায় বেশি মুনাফা বা লাভ হয়? এটা একেবারেই স্বাভাবিক। কারণ সবাই চায় কম পুঁজিতে বেশি লাভ করা যায় কোন ব্যবসায়? দেখুন, ব্যবসায় লাভের পরিমাণ নির্ভর করে আপনার ব্যবসার স্থান, ব্যবসার ধরণ এবং আপনার ব্যবসা পরিচালনা করার দক্ষতার উপর। বর্তমান ব্যবসার বাজার বিশ্লেষণ করে আমরা প্রধানত দুই ধরনের ব্যবসা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি।
১. প্রোডাক্ট/পণ্য ভিত্তিক ব্যবসা (Product)
২. সার্ভিস/সেবা ভিত্তিক ব্যবসা (Service)।
তাহলে চলুন বন্ধুরা আমরা ১. প্রোডাক্ট/পণ্য ভিত্তিক ব্যবসা (Product) এবং ২. সার্ভিস/সেবা ভিত্তিক ব্যবসা (Service) সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
১. প্রোডাক্ট/পণ্য ভিত্তিক ব্যবসা (Product)
প্রোডাক্ট/পণ্য ভিত্তিক ব্যবসা (Product) এ লাভ নির্ভর করে সাধারণত পণ্য বা প্রোডাক্ট এর কেনা বেচার ওপর। এখানে আপনি যত কম মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন তত আপনার লাভ। কেননা একটি কথা রয়েছে ব্যবসাতে কেনাতে লাভ করতে হয়। তাহলে বিক্রয় করতে সহজ হয় এবং লাভের পরিমাণ বেশি হয়। এই ব্যবসায় বিনিয়োগ কিছুটা বেশি করতে হয় এবং ব্যবসা বড় করার সুযোগ থাকে। এই ব্যবসা আপনি অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবেই করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনার একটি ফেসবুক পেইজ বা ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট এবং নির্ধারিত দোকান/জায়গার দরকার পড়বে।
প্রোডাক্ট/পণ্য এর উৎস: সরাসরি উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বা পাইকারি মার্কেট থেকে কম দামে কিনে বেশি দামে খুচরায় বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়। যেমন-টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, শাড়ি, কসমেটিক্স, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ইত্যাদি।
লাভের পরিমাণ:
প্রোডাক্ট/পণ্য ভিত্তিক ব্যবসায় সাধারণত ২০% থেকে ৫০% পর্যন্ত লাভ/প্রফিট/মুনাফা হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি আনকমন বা ইউনিক প্রোডাক্ট যেমন হাতে তৈরি পোশাক, শিল্প জাত পণ্য বিক্রি করতে পারেন সে ক্ষেত্রে ৫০% পর্যন্ত মুনাফা/লাভ হতে পারে। এবার ব্যবসায় একটি সুবিধা হল অনেক প্রোডাক্ট/পণ্য একসাথে কিনে ধাপে ধাপে খুচরা মূল্যে বিক্রয় করলে ভালো পরিমান লাভ থাকে।
এই ব্যবসার ঝুঁকি:
আপনি যদি দ্রুত পচনশীল কিংবা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এ ধরনের প্রোডাক্ট/পণ্য কিনে ব্যবসা করতে চান সেক্ষেত্রে একটু ঝুঁকি থাকে। তাই সেগুলোর চাহিদা মোতাবেক আপনি কৌশলে ব্যবসা গুলো করতে পারবেন। নতুবা ব্যবসায় ক্ষতি বা লসের সম্মুখীন হতে পারেন।
২. সার্ভিস/সেবা ভিত্তিক ব্যবসা (Service)
সার্ভিস/সেবা ভিত্তিক ব্যবসা (Service) এ লাভের পরিমাণ বেশি থাকবে। যেহেতু এখানে প্রোডাক্ট বা মালামাল স্টকের কোন প্রয়োজন নেই তাই এখানে আপনার পুঁজি বা বিনিয়োগের তেমন দরকার পড়ে না। এখানে আপনার বিনিয়োগ বলতে আপনার মেধা, দক্ষতা, কৌশল এবং সময়কে বুঝায়। আপনি কোন কাজের ওপর দক্ষতা অর্জন করলে সেই দক্ষতা ও মেধা দিয়ে আপনি আজীবন সেবামূলক কাজ করে আয় করতে পারবেন। যেমন ধরুন, ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, রিপিয়ারিং ইত্যাদির ওপর দক্ষতা অর্জন করতে পারলে আজীবন সেটি কাজে লাগানো যায়। সে ক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ পুরোটাই ধরা যায়। আপনি কোন এসি, ফ্রিজ ইত্যাদি সার্ভিসিং করে দেবেন পার্টস-পাতি তারাই কিনে দিবে আপনি শুধু পণ্যটি ঠিক করে দেবেন। এতে আপনি মজুরি হিসেবে ভালো মানের একটি টাকা পাবেন। এই কাজটি আপনি অনলাইন এবং অফলাইন দুই ভাবেই করতে পারবেন। তবে কিছু কাজ আপনাকে সরাসরি গিয়ে করে দিতে হতে পারে।
এই ব্যবসার ঝুঁকি:
সাধারণত এই ব্যবসায় তেমন কোন ঝুঁকি নেই। তবে সাবধানতা বসত কাজ করলে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলা সম্ভব।

অনলাইন বনাম অফলাইন লাভ ও সুবিধা-অসুবিধা

অনলাইন এবং অফলাইন ব্যবসায় তুলনামূলক লাভের ধারণা এবং কিছু সুবিধা -অসুবিধা নিচে তুলে ধরা হলো-
ক্রম বৈশিষ্ট্য অনলাইন ব্যবসা (Online) অফলাইন ব্যবসা (Offline)
০১ পরিচালনা খরচ খরচ খুব কম (দোকান ভাড়া নেই) খরচ বেশি (দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল)
০২ কাস্টমার রিচ সারা দেশ বা সারা বিশ্ব পাড়া-মহল্লা, নির্দিষ্ট এলাকা
০৩ লাভের পরিমাণ খরচ কম তাই লাভ বেশি খরচ বেশি তাই লাভ কিছুটা কম
০৪ বিশ্বাস যোগ্যতা গ্রাহক পেতে কিছুটা সময় লাগে সরাসরি পণ্য দেখে কিনে তাই সময় কম লাগে

লাভ/প্রফিটের হিসাব নিকাশ

লাভ বা প্রফিটের হিসাব নিকাশ খুব ভালোভাবে জেনে রাখা উচিত। শুধুমাত্র পণ্য/সার্ভিস বেচাকেনার উপর লাভ নির্ভর করে না। লাভ নির্ভর করে পণ্য/সার্ভিস এর কেনা দাম, যাতায়াত খরচ, প্যাকেজিং খরচ, মার্কেট খরচ ইত্যাদির ওপর।
লাভের পরিমাণ = বিক্রয় মূল্য - (পণ্যের কেনা দাম+ প্যাকেজিং খরচ+ যাতায়াত বা ডেলিভারি খরচ+ মার্কেটিং খরচ)।
পরামর্শ:
ব্যবসার শুরুতে লাভের পরিমাণ কিছুটা কম রেখে সততার সাথে কাস্টমার বাড়ানো ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করাই মূল কাজ। এতে আপনার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার একটি কৌশল তৈরি হবে।
কাস্টমার/গ্রাহক ধরার কৌশল
ব্যবসা শুরু করতে হলে প্রথমেই আপনাকে গ্রাহক/কাস্টমার সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এজন্য আপনাকে সততা ও সঠিক পণ্য সরবরাহ করতে হবে। আর ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে - "প্রচারেই প্রচার" অর্থাৎ যার প্রচার বেশি, তার বিক্রিও হয় বেশি এবং তার লাভের পরিমাণও বেশি।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার:

আপনার ব্যবসার প্রসার বাড়ানোর জন্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার পণ্যের গুণগত মান, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করুন। যেন গ্রাহক সহজেই আপনার প্রোডাক্ট সম্বন্ধে একটা ভালো ধারণা পান।
গ্রাহকের প্রতি ভালো ব্যবহার:
ব্যবসার মূল চাবিকাঠি হল সততা ও ভালো ব্যবহার। আপনি আপনার গ্রাহক/কাস্টোমারের সাথে সর্বদাই ভালো ব্যবহার এবং সঠিক মানের পণ্য দেবার চেষ্টা করুন। আপনার পণ্যে যদি কোন সামান্য পরিমাণ ডিফেক্ট থাকে তাহলে গ্রাহককে জানিয়ে দিন। এতে আপনার প্রতি তার বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ে যাবে। তাছাড়া ডিফেক্ট পণ্য একবার দিলে আপনার প্রতি তার অবিশ্বাস সৃষ্টি হবে এবং সেই কাস্টমার আপনার কাছে আর কোনদিন নাও ফিরে আসতে পারে।
ডিসকাউন্ট/অফার:
পহেলা বৈশাখ, নতুন বছর, ভালোবাসা দিবস ইত্যাদি বিশেষ দিনগুলোতে আপনি আপনার কাস্টমারকে খুশি রাখার জন্য মাঝেমধ্যে ছোট ছোট অফার বা ডিসকাউন্ট দিন যাতে আপনার কাছে সে আবার ফিরে আসে। আমরা সবাই জানি, বাঙালি মানেই ফ্রি পেতে পছন্দ করে। তাই আপনি এই সুযোগটি ওই বিশেষ দিনগুলোতে কাজে লাগাতে পারেন।

অনলাইন/অফলাইন ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি করার কৌশল

বর্তমানে অনলাইন/অফলাইন ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি করার কৌশল হিসাবে আপনি ডিজিটাল ডিভাইস এর সহযোগিতা নিতে পারেন। কেননা অল্প পুঁজির ব্যবসা বড় করার চেয়ে বর্তমানে টিকিয়ে রাখায় চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য আপনাকে ব্যবসা পরিচালনা বা বৃদ্ধি করার জন্য দক্ষতা ও কৌশল অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। তাই আপনার কাছে প্রোডাক্ট/পণ্য কিংবা দক্ষতা জানা থাকলেই হবে না সেগুলো সঠিক কাস্টমারের নিকট জানাতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি নিচের পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করলে আপনার ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
ফেসবুক মার্কেটিং (Facebook Marketing)
বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ফেসবুক একটি গ্লোবাল মার্কেটে পরিণত হয়েছে। এখানে আপনি আপনার পণ্যের গুণগত মান, ছবি ও ভিডিও আপলোড করে টার্গেট কাস্টমারের কাছে তুলে ধরতে পারেন। অনুরূপভাবে আপনার দক্ষতাও আপনি সারা বিশ্বের টার্গেট কাস্টমারকে জানাতে পারেন। বর্তমানে ফেসবুক লাইভ কাস্টোমারের নিকট বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাই আপনি আপনার নতুন নতুন প্রোডাক্টগুলো নিয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফেসবুক লাইভ করুন দেখবেন আপনার কাস্টমার বেড়ে গেছে। এতে করে কাস্টমারের সাথে আপনার সরাসরি একটা বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে উঠবে। তাছাড়া নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ফেসবুক বুষ্টিং করেও সেল/বিক্রি বাড়ানো সম্ভব।
লোকাল এসিও (Local SEO)
আপনার যদি নির্দিষ্ট এলাকায় একটি দোকান, রেস্টুরেন্ট বা অফিস থাকে তাহলে লোকাল এসিও হবে আশীর্বাদ স্বরূপ। আপনি গুগল ম্যাপে গুগল মাই বিজনেস আপনার দোকানের বা প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও কন্টাক্ট নাম্বার (ফোন নাম্বার) সংযুক্ত করুন। যখন কোন কাস্টমার নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি গুগলে লিখে সার্চ করবে তখন আপনার প্রতিষ্ঠানটি তার সামনে ভেসে উঠবে। যেমন ধরুন, কাস্টমার যদি লিখে "Best restaurant near me" অথবা "Best tea stall near me" লিখে সার্চ করবে তখন Google সবার আগে আপনার রেস্টুরেন্ট/চা স্টল তার সামনে তুলে ধরবে। তখন আপনি সহজেই সেই কাস্টমার পেয়ে যাবেন। এই পদ্ধতি ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোতে খুবই প্রচলিত। বর্তমানে আমাদের দেশেও ব্যাপকভাবে এই পদ্ধতি শুরু হতে চলেছে। তাই আপনি আপনার অনলাইন/অফলাইন ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করতে পারেন।
হোয়াটসঅ্যাপে (WhatApp) সেলস
আপনি যখন কোন কাস্টমারের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন করবেন তখন এতটাই আন্তরিকতা দেখাবেন যেন সেই কাস্টমার আপনার যেন খুব কাছের একজন। এতে করে আপনার ব্যবসা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করুন। কাস্টমারের চাহিদা বুঝে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে প্রোডাক্ট এর ছবি ও গুলোগতমান শেয়ার করুন। তবে খেয়াল রাখুন কাস্টমারকে কখনোই বিরক্ত করা যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই দূরত্ব বজায় রেখে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। কাস্টমারের সমস্যার সমাধান এনে দিলে আপনার প্রতি তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা বেড়ে যাবে। ফলে এই কৌশলটিও আপনার ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি করার একটি কৌশল হতে পারে।
ইউটিউব চ্যানেল মার্কেটিং
আপনি আপনার দোকান/প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ইউটিউব (YouTube) চ্যানেল চালু করতে পারেন। সেখানে আপনার দোকানে/প্রতিষ্ঠানে থাকা পণ্যের ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করলে দ্রুত ব্যবসার প্রসার ঘটতে পারে।
রিপিট কাস্টমার তৈরির কৌশল
ব্যবসা প্রসারের জন্য রিপিট কাস্টমার/গ্রাহক অত্যন্ত জরুরী। একজন নতুন গ্রাহক/ক্রেতা পাওয়ার চেয়ে পুরনো গ্রাহক/রিপিট কাস্টমার পাওয়া বেশি লাভজনক। আপনি আপনার পুরনো কাস্টমার ধরে রাখার কৌশল হিসেবে ছোট ছোট গিফট বা বিশেষ ডিসকাউন্ট দেওয়ার চেষ্টা করুন যেন বারবার আপনার কাছে ফিরে আসে। প্রোডাক্ট সম্পর্কে কাস্টমারের কাছে ফিডব্যাক/মতামত গ্রহণ করুন। এতে আপনার প্রতি কাস্টমারের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে এবং পুনরায় আসার প্রবল সম্ভাবনা থাকবে।

অনলাইন/অফলাইন ব্যবসা করতে লাইসেন্স লাগবে কি?

অনলাইন/অফলাইন ব্যবসা করতে লাইসেন্স লাগবে কিনা এ সম্পর্কে অনেকেই জানে না। তবে কেউ কেউ মনে করে ছোট ব্যবসায়ী হয়তো লাইসেন্স লাগে না। তবে আইনে জটিলতা এড়াতে এবং নিরাপদ থাকতে কিছু বিষয় জানা বিশেষভাবে জরুরী।
আপনি যদি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা করতে চান তবে ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতা মূলক নয় তবে ই-ক্যাব (e-CAB) এর মেম্বারশিপ এবং ট্রেড লাইসেন্স থাকলে অনেক সময় কাস্টমারের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আস্থা বাড়ে। তাই ট্রেড লাইসেন্স করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অফলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে:
আপনি যদি ফিজিক্যালি কোন দোকান, রেস্টুরেন্ট বা অফিস নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তবে স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট থেকে ট্রেড লাইসেন্স করে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। কেননা ভবিষ্যৎ আইনে জটিলতা এড়াতে ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
FAQ (প্রশ্নোত্তর): কম পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া ২০২৬
প্রশ্ন: ২০২৬ সালে কোন ব্যবসা সবচেয়ে বেশি লাভজনক?
উত্তর: ২০২৬ সালে গেজেট আইটেম, অর্গানিক খাদ্যদ্রব্য এবং ডিজিটাল সার্ভিস (যেমন- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন) ইত্যাদির চাহিদা বেশি এবং লাভজনক।
প্রশ্ন: ৫,০০০ টাকায় কি কোন ব্যবসা করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনি ৫ হাজার টাকায় অনলাইন রিসেলিং, হোম মেড খাবার যেমন- আচার, মধু, ঘি ইত্যাদির ব্যবসা এবং ভ্রাম্যমান চা-বিস্কিটের ব্যবসা করতে পারেন।
প্রশ্ন: চাকরির পাশাপাশি কোন ব্যবসা করা যায়?
উত্তর: চাকরির পাশাপাশি পার্ট টাইম ড্রপ শিপিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের মত ব্যবসা করা যায়।
প্রশ্ন: অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে কি কি লাগে?
উত্তর: অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে একটি স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ, ইন্টারনেট সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ফেসবুক পেজ লাগে।

সর্বশেষ কথা - কম পুঁজিতে অনলাইন বিজনেস প্রোডাক্ট আইডিয়া ২০২৬

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ আমরা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়েছেন এবং বুঝেছেন। ব্যবসা শুরু করতে হলে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবসা শুরু করতে হবে। তারপরেও আপনার যদি কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আপনাকে পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করব। আশা করি লেখাটি পড়ে আপনি প্রকৃত হয়েছেন। আপনি উপকৃত হয়ে থাকলে লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রইল উপকৃত হতে পারেন। আজকের কম পুঁজিতে অনলাইন ব্যবসার প্রোডাক্ট আইডিয়া ২০২৬ লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
লেখক পরিচিতি:
মোহাঃ গোলাম কবির
বি.এস-সি (অনার্স), এম.এস-সি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
(বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত নিয়মিত ব্লগ লেখক)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url